জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক:
খালি পায়ের ঘাম-ময়লা মাখানো খামির দিয়েই তৈরি হচ্ছে আপনার প্রিয় চানাচুর! তার ওপর বছরের পর বছর ধরে পোড়ানো বাসি, নোংরা, পচা তেলে ভাজা হচ্ছে এই চানাচুর। না জেনেই প্রতিদিন ভয়ানক এই বিষ খাচ্ছি আমি-আপনি আমরা সবাই! একজন মানুষ হয়েও অন্য মানুষের মুখে শুধুমাত্র বেশি মুনাফার লোভে এরা তুলে দিচ্ছে এই বিষ!
এটাই বাংলাদেশের কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর আসল চেহারা। লাভের নেশায় এরা মানুষের মুখে বিষ তুলে দিতেও একটু দ্বিধা করে না! শিশুর ভবিষ্যৎ, মানুষের জীবন সবকিছুর চেয়ে এদের কাছে বড় শুধু টাকার লোভ। এরা ব্যবসায়ী নয়, এরা মানুষের খাবারে বিষ মেশানো অপরাধী এদের বিরুদ্ধে শুধু জরিমানা নয়, দরকার কঠোরতম শাস্তি!
জনপ্রিয় মুখরোচক খাবার চানাচুর। চা-আড্ডা কিংবা অলস দুপুরে চানাচুরের জুড়ি নেই। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই মুখরোচক খাবারটি কীভাবে তৈরি হচ্ছে? সম্প্রতি ভোক্তা অধিকারের অভিযানে উঠে এসেছে খাবার তৈরির এমন ভয়াবহ চিত্র যা দেখলে শরীর হিম হয়ে যায়! সব জায়গায় ভেজাল রঙ, পচা-বাসি উপাদান প্রসেস করে খাওয়ানো হচ্ছে ভোক্তাদের। যেন টাকার লোভে অন্ধ এই দেশের একদল ব্যবসায়ী মানুষের জীবনের কোনো মূল্যই নেই এদের কাছে!
স্যাঁতসেঁতে ও দুর্গন্ধযুক্ত ঘরে কোনো প্রকার স্বাস্থ্যবিধি না মেনে খালি পায়ে, এমনকি ঘামে ভেজা শরীরে শ্রমিকেরা পা দিয়ে ময়দা ও বেসনের খামির ময়ান দিচ্ছেন। পায়ের ময়লা, ধুলাবালি আর শরীরের ঘাম সরাসরি মিশে যাচ্ছে চানাচুরের প্রধান উপাদানে। শুধু তা-ই নয়, কারখানাগুলোর চারপাশে মাছি ও পোকামাকড়ের ভনভনানি, ড্রেনের পাশেই খোলা অবস্থায় ফেলে রাখা কাঁচামাল।
এর চেয়েও ভয়াবহ চানাচুর ভাজার প্রক্রিয়া। উৎপাদন খরচ কমাতে কারখানাগুলোতে কয়েক বছর ধরে বারবার ব্যবহার করা বিষাক্ত, কালচে পোড়া তেল ব্যবহার করা হচ্ছে। যে তেলে একবার ভাজা হয়, সেই তেলেই মাসের পর মাস, বছরের পর বছর ভাজা চলছে! এই পোড়া তেলই ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে নীরব বিষে। আর চানাচুরকে আকর্ষণীয় ও চটকদার লালচে রঙ দিতে মেশানো হচ্ছে কাপড়ের রঙ ও অননুমোদিত শিল্পকারখানার রাসায়নিক কেমিক্যাল। জি, ঠিকই শুনেছেন কাপড় রাঙানোর রঙ মেশানো হচ্ছে আপনার খাবারে!
চিকিৎসকদের মতে, এসব খাবার মানবদেহের জন্য নীরব ঘাতক। নোংরা পরিবেশের চানাচুর খেলে তাৎক্ষণিকভাবে ডায়রিয়া, ফুড পয়জনিং বা পেটের তীব্র সমস্যা হতে পারে। আর দীর্ঘদিন পোড়া তেল ও কেমিক্যালযুক্ত চানাচুর খেলে শরীরে বাসা বাঁধে ফ্যাটি লিভার, কিডনি জটিলতা এবং ক্যানসারের মতো মরণব্যাধি। অর্থাৎ প্রতিদিন একটু একটু করে আমরা নিজেরাই নিজেদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছি আর মুনাফা গুনছে সেই অসাধু ব্যবসায়ীরা!
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রায়শই এসব অবৈধ কারখানায় অভিযান চালিয়ে জরিমানা ও কারখানা সিলগালা করছে। কিন্তু তাতে কী হচ্ছে? অসাধু ব্যবসায়ীরা নাম বদলে আবার একই অনৈতিক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে! জরিমানার টাকা এদের কাছে কিছুই না। একদিনের মুনাফা দিয়েই সেই জরিমানা উঠে আসে। যতদিন এদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা না হবে, ততদিন এই বিষ-বাণিজ্য বন্ধ হবে না।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি