Print Date & Time : 24 October 2026 Saturday 09:05 pm

সন্তান হারানোর শোক নিয়ে কক্সবাজার ছাড়ল নিউজিল্যান্ডের পরিবার

image

জাতীয় অর্থনীতি অনলাইন: সাগরের উত্তাল ঢেউয়ে ডুবে গেছে স্বপ্নের নৌযান। প্রাণ হারিয়েছেন ১৬ বছরের সন্তান আলবার্ট। এরপর কক্সবাজারের একটি হোটেলে কেটেছে ৫০ দিন। শোক, অনিশ্চয়তা আর নানা আনুষ্ঠানিকতা শেষে কক্সবাজার ছেড়েছে নিউজিল্যান্ডের পরিবারটি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকালে কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে উড়োজাহাজে ওঠেন ৭৪ বছর বয়সী জন এডওয়ার্ড পুডনি, তার স্ত্রী বেলা (৩৬) ও ১৩ বছর বয়সী ছেলে রালফ। এর আগে বিকেল ৩টার দিকে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে থাকা পর্যটন মোটেল শৈবাল থেকে বিদায় নেন তারা।

বিদায়ের সময় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে ছবি তোলেন পরিবারের সদস্যরা। দীর্ঘদিন কক্সবাজারে অবস্থানের স্মৃতি ধরে রাখতে কিছু সময় তাদের সাথে কাটান। বিকেল ৪টার দিকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহান পরিবারটিকে বিদায় জানান।

গত ২৫ আগস্ট কক্সবাজারের নাজিরারটেক ও সোনাদিয়া দ্বীপের মধ্যবর্তী সাগরে ডুবে যায় পরিবারটির কাঠের নৌযান ‘আইল্যান্ড গার্ল’। কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা জন এডওয়ার্ড পুডনি, তার স্ত্রী বেলা ও ছোট ছেলে রালফকে জীবিত উদ্ধার করেন। তবে নিখোঁজ ছিল পরিবারের বড় ছেলে আলবার্ট। পরদিন বিকালে সমিতি পাড়াসংলগ্ন সৈকত থেকে ১৬ বছর বয়সী আলবার্টের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, আলবার্ট বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ছিল এবং সাঁতার জানত না। নৌযানডুবির সময় তার লাইফ জ্যাকেটের ক্লিপ ঠিকভাবে আটকানো ছিল না বলে পরিবারের সদস্যদের ধারণা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ১৩ সেপ্টেম্বর তার মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়। পরে মরদেহ বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এরপর ১৫ সেপ্টেম্বর নিউজিল্যান্ড দূতাবাস ও পরিবারের সম্মতিতে কক্সবাজার শহরের একটি হিন্দু শ্মশানে আলবার্টের দাহ সম্পন্ন হয়। শেষকৃত্য শেষ হলেও ভিসা, পাসপোর্ট ও বিমানের টিকিটসংক্রান্ত বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার কারণে পরিবারটিকে আরও কয়েক সপ্তাহ কক্সবাজারে থাকতে হয়।

নৌযানডুবির পর জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পর্যটন মোটেল শৈবালে ছিলেন পরিবারের সদস্যরা। তাদের থাকা, খাবার ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়। পরিবারটির নিরাপত্তায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে নিয়মিত পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।

পর্যটন মোটেল শৈবালের ব্যবস্থাপক রায়হান উদ্দিন আহমেদ জানান, দীর্ঘ ৫০ দিন পরিবারটির থাকা, খাবার ও লন্ড্রি বাবদ মোট বিল হয়েছে ৪ লাখ ২৪ হাজার ৬২৭ টাকা। এর মধ্যে কক্ষ ভাড়ায় ২০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়েছে। বিল পরিশোধের জন্য শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় অবস্থিত নিউজিল্যান্ড হাইকমিশনের কনস্যুলার কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

বিশ্বভ্রমণের স্বপ্ন নিয়ে সমুদ্রযাত্রা শুরু করেছিল পরিবারটি। কিন্তু একের পর এক দুর্ঘটনায় সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়। গত ৭ এপ্রিল বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে মহেশখালী চ্যানেল অতিক্রমের সময় ‘আইল্যান্ড গার্ল’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে পরিবারটি সোনাদিয়া দ্বীপে আশ্রয় নেয়। সেখানে রাতে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হয়ে ক্যামেরা, মোবাইল ফোন, পাসপোর্ট, ডলারসহ বিভিন্ন মালামাল হারায় তারা। ১০ এপ্রিল কোস্টগার্ড তাদের উদ্ধার করে এবং পরে অভিযান চালিয়ে লুট হওয়া অধিকাংশ মালামাল উদ্ধার করা হয়।

এরপর ভিসার মেয়াদসংক্রান্ত বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সমুদ্রপথে চট্টগ্রামের দিকে যাওয়ার সময় ২৫ আগস্ট আবারও দুর্ঘটনার কবলে পড়ে নৌযানটি। এবার আর বাঁচানো যায়নি আলবার্টকে। দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে কক্সবাজার ছাড়ল পরিবারটি।


—জা.অর্থনীতি/আরএস