Print Date & Time : 20 October 2026 Tuesday 09:25 pm

১৯৯৬ সালের শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি: তিন দশকেও বিচার কেন ঝুলছে? (ভিডিও)

image

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক:

 

একটি আর্থিক কেলেঙ্কারির বিচার হতে যদি লেগে যায় প্রায় তিন দশক, তাহলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কতটা অটুট থাকে?

১৯৯৬ সালের শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির দিকে তাকালেই সামনে আসে এমন প্রশ্ন। ঘটনার পর মামলা হয়েছে, তদন্ত হয়েছে, কিছু রায়ও এসেছে। কিন্তু অধিকাংশ মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আজও হয়নি।

কোনো মামলার বিচার চলছে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে, কোনোটি উচ্চ আদালতের আদেশে স্থগিত, আবার কয়েকটি মামলায় আসামিরা খালাস পেলেও সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল ঝুলে আছে।

দীর্ঘ এই বিচারিক প্রক্রিয়া শেয়ারবাজারের আস্থার সংকটকে আরও গভীর করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন-বিএসইসির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির ঘটনায় ৩৮ ব্যক্তি, আটটি তালিকাভুক্ত কোম্পানি এবং ছয়টি ব্রোকারেজ হাউজের বিরুদ্ধে মোট ১৫টি মামলা করা হয়।

বিএসইসির হালনাগাদ তথ্য বলছে, মামলাগুলোর অবস্থা একেক রকম। কোনোটি নিষ্পত্তি হয়েছে, কোনো মামলায় আসামিরা খালাস পেয়েছেন, আবার কোনোটি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন।

শুধু ১৯৯৬ সালের ঘটনা নয়, ২০১০ সালের শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির বিচারও এখনো শেষ হয়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাহমুদ ওসমান ইমামের মতে, সময়মতো বিচার না হলে অনিয়মকারীদের মধ্যে দায়মুক্তির মনোভাব তৈরি হয়। এতে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা বাড়ে।

দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত ট্রাইব্যুনাল ও অভিজ্ঞ বিচারক নিয়োগের পাশাপাশি বিচারকদের পুঁজিবাজার বিষয়ে প্রশিক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক আবুল কালামের মতে, কমিশনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হয়েছে। তবে মামলাগুলো হাইকোর্টে বিচারাধীন থাকায় এ পর্যায়ে বিএসইসির সরাসরি কিছু করার সুযোগ নেই।

সব মিলিয়ে, ১৯৯৬ সালের শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির প্রায় তিন দশক পরও বিচারপ্রক্রিয়ার বড় অংশের নিষ্পত্তি না হওয়া জবাবদিহি ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কার্যকর বিচার, শাস্তি বাস্তবায়ন এবং সময়মতো মামলা নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা না গেলে বাজারে আস্থার সংকট কাটানো কঠিন হবে।

শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় তাই শুধু মামলা দায়ের নয়, বিচার শেষ করা এবং রায় কার্যকর করাও গুরুত্বপূর্ণ।  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি