হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে গত ৫ মাস আগে নিখোঁজ হওয়া যুবক সালমানের (২১) মরদেহের কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে হোসেনপুর উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের দক্ষিণ কুড়িমারা গ্রামের নরসুন্দা নদীর কচুরিপানার নিচ থেকে জেলা ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল ওই দেহাংশের কঙ্কাল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-পাশের পাকুন্দিয়া উপজেলার বিশ্বনাথপুর গ্রামের গোলাপ মিয়ার দুই ছেলে মো. মাফি মিয়া (২০) ও শাকিল মিয়া (১৮) এবং মো. রফিক মিয়া (১৯)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিণ কুড়িমারা গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে আরিফুল ইসলাম সালমান গত ১৮ মে বাড়ি থেকে বের হয়ে হঠাৎ নিখোঁজ হন। ওই নিখোঁজের ঘটনার তদন্তে নেমে কিশোরগঞ্জ জেলা ডিবি পুলিশ গত বৃহস্পতিবার রাতে জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার বিশ্বনাথপুর চৌকিদার বাড়ি এলাকা থেকে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে মাফি ও শাকিল নামের সহোদর দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা সালমানকে হত্যার পর লাশ নরসুন্দা নদীতে গুম করার কথা স্বীকার করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৬ অক্টোবর বিকেলে গ্রেপ্তারকৃতদের সঙ্গে নিয়ে জেলা ডিবি পুলিশ হোসেনপুর উপজেলার দক্ষিণ কুড়িমারা এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানে তাদের দেখানো স্থান অনুযায়ী নরসুন্দা নদীর কচুরিপানার নিচ থেকে সালমানের দেহাংশের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।
দীর্ঘদিন পর নিখোঁজ যুবকের এমন নির্মম মৃত্যু ও কচুরিপানার নিচ থেকে কঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় দারুণ চাঞ্চল্যের পাশাপাশি সর্বত্রই শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আবুল হাসিম সবুজ জানান, নিখোঁজের পরপরই পুলিশ যথাযথ ভূমিকা নিলে আজ সালমানের কঙ্কাল উদ্ধারের পরিবর্তে হয়তো তাঁকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হতো। এ সময় উপস্থিত এলাকাবাসী ওই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ ব্যাপারে হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি ডিবি পুলিশ তদন্ত করছে, তাই তারাই বিস্তারিত তথ্য জানাবে।
কিশোরগঞ্জ ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাকির হোসেন বলেন, আগামীকাল শনিবার জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফ করা হবে। —জা. অর্থনীতি/এলএটি