Print Date & Time : 28 October 2026 Wednesday 07:56 am

শিশুর আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন হলে সতর্ক হোন! (ভিডিও)

image

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: শিশুর নিরাপত্তা কি শুধু অপরিচিত মানুষের কাছ থেকেই ঝুঁকিতে? বাস্তবতা হলো, শিশু যৌন নির্যাতনের ক্ষেত্রে অপরাধী কখনো পরিচিত, আত্মীয়, শিক্ষক বা বিশ্বাসযোগ্য কোনো প্রাপ্তবয়স্কও হতে পারেন। আর একটি প্রচলিত ভুল ধারণা হলো, শিশুকে যৌন নির্যাতন করা প্রত্যেক ব্যক্তিই ‘পেডোফিলিয়া’ আক্রান্ত।

শিশু যৌন নির্যাতন শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। তবে, এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুল ধারণা রয়েছে। শিশু যৌন নির্যাতনকারী প্রত্যেক ব্যক্তি পেডোফিলিয়ায় আক্রান্ত নন।

 

পেডোফিলিয়া বলতে সাধারণত বয়ঃসন্ধির আগের শিশুদের প্রতি স্থায়ী যৌন আকর্ষণকে বোঝানো হয়। কিন্তু শিশু যৌন নির্যাতনের পেছনে যৌন আকর্ষণের পাশাপাশি ক্ষমতা, নিয়ন্ত্রণ, সুযোগ এবং অন্যান্য মানসিক ও সামাজিক কারণও থাকতে পারে।

অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীরা প্রথমে শিশুর বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করে। অতিরিক্ত উপহার দেওয়া, শিশুকে একা সময় কাটানোর সুযোগ খোঁজা, গোপনীয়তা বজায় রাখতে বলা কিংবা পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছ থেকে শিশুকে আলাদা করার চেষ্টা এসব আচরণ সতর্ক হওয়ার কারণ হতে পারে।

এর ফলে, শিশুর আচরণেও পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। হঠাৎ অতিরিক্ত ভয় পাওয়া, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে এড়িয়ে চলা, ঘুমের সমস্যা, অস্বাভাবিক চুপচাপ হয়ে যাওয়া কিংবা বয়সের তুলনায় যৌন বিষয়ে অস্বাভাবিক জ্ঞান এসব সংকেত গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে, কোনো একটি লক্ষণ দেখেই নির্যাতনের সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, শিশু কিছু বলতে চাইলে তাকে দোষারোপ না করে মন দিয়ে শুনতে হবে। তাকে বোঝাতে হবে ঘটনার জন্য সে দায়ী নয় এবং তাকে বিশ্বাস করা হচ্ছে।

নির্যাতনের সন্দেহ হলে শিশুকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে দ্রুত চিকিৎসা ও আইনগত সহায়তা নেওয়া জরুরি। বাংলাদেশে জরুরি সহায়তার জন্য ৯৯৯ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত সহায়তার জন্য ১০৯ নম্বরে যোগাযোগ করা যায়।

শিশুকে নিরাপদ রাখতে শুধু অপরিচিত মানুষকে নয়, তার আশপাশের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্কের আচরণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। কারণ, শিশুর সবচেয়ে বড় সুরক্ষা তার কথা মন দিয়ে শোনা এবং বিশ্বাস করা।

শিশুর যে আচরণে সতর্ক হবেন!

শিশু যৌন নির্যাতনকারী প্রত্যেক ব্যক্তি ‘পেডোফিলিয়ায়’ আক্রান্ত এ ধারণা সঠিক নয়। নির্যাতনের পেছনে যৌন আকর্ষণের পাশাপাশি ক্ষমতা, নিয়ন্ত্রণ ও সুযোগসহ বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। শিশুকে আলাদা করে রাখা, অতিরিক্ত উপহার দেওয়া, গোপনীয়তা চাওয়া কিংবা আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন, এসব বিষয়ে অভিভাবকদের সতর্ক থাকা জরুরি। আর শিশু কিছু জানালে তাকে দোষ না দিয়ে মন দিয়ে শুনুন এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা নিন।

পরিচিতজনও হতে পারে শিশুর ঝুঁ’কি!

শিশুর নিরাপত্তা কি শুধু অপরিচিত মানুষের কাছ থেকেই ঝুঁকিতে? বাস্তবতা হলো, শিশু যৌন নির্যাতনের ক্ষেত্রে অপরাধী কখনো পরিচিত, আত্মীয়, শিক্ষক বা বিশ্বাসযোগ্য কোনো প্রাপ্তবয়স্কও হতে পারেন। আর একটি প্রচলিত ভুল ধারণা হলো, শিশুকে যৌন নির্যাতন করা প্রত্যেক ব্যক্তিই ‘পেডোফিলিয়া’ আক্রান্ত। তাহলে পেডোফিলিয়া কী, আর এর জন্য অভিভাবকদের কোন সংকেতগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত?  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি