Print Date & Time : 25 October 2026 Sunday 05:20 pm

১৩ বছর বয়সী মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত শিক্ষকের স্ত্রী গ্রেপ্তার

image

প্রতিনিধি: ঢাকার সাভারে ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে 'তোহফাতুল জান্নাহ মহিলা মাদ্রাসা'র প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল বারী (৫০) পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় ধর্ষণে সহায়তা এবং ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও অভিযুক্ত শিক্ষকের স্ত্রী তোহফাতুল জান্নাহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে গত বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের ছোট কালিয়াকৈর এলাকায় অবস্থিত ওই মাদ্রাসার ভেতরের একটি কক্ষে ধর্ষণের এ ঘটনা ঘটে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে মাদ্রাসার একটি কক্ষে আব্দুল বারী ওই ছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত শিক্ষক তার স্ত্রী তোহফাতুল জান্নাহর মাধ্যমে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করান এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত মাদ্রাসার ভেতর আটকে রাখেন। বিষয়টিতে মুখ খুললে ভুক্তভোগীকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। পরবর্তীতে মাদ্রাসার এক নারী বাবুর্চির সহযোগিতায় মেয়েটি সেখান থেকে কৌশলে বের হয়ে বাড়ি ফিরে তার দাদাকে বিস্তারিত জানায়।

ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। উত্তেজিত জনতা রাতে মাদ্রাসা ও শিক্ষকের বাসভবন ঘেরাও করে অভিযুক্তের স্ত্রী ও ছেলেকে অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের কাজে বাধা দেয়। একপর্যায়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে মাদ্রাসা এবং অভিযুক্তের বাসভবনের দুটি কক্ষে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাত ৯টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্য, অভিযুক্তের স্ত্রী তোহফাতুল জান্নাহ ও তার ছোট ছেলেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এলাকায় নতুন করে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা মতিউর রহমান অন্য ছাত্রীদের বরাত দিয়ে অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত আব্দুল বারীর স্ত্রী নিজে শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকার অজুহাত দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে মাদ্রাসার ছাত্রীদের স্বামীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করার চেষ্টা করতেন। তবে এ অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, ভুক্তভোগী ছাত্রীর দাদার দায়ের করা মামলায় আব্দুল বারীর স্ত্রীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মূল অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আব্দুল বারীকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে। এ ছাড়া পুরো ঘটনায় তাঁর স্ত্রীর সুনির্দিষ্ট ভূমিকা কী ছিল, তা অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি