Print Date & Time : 26 October 2026 Monday 03:39 am

গৃহযুদ্ধের মিয়ানমারে রাশিয়ার পারমাণবিক প্রকল্প, কতটা নিরাপদ? (ভিডিও)

image

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: যে দেশে এখনো ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ চলছে, সেই দেশেই কি শুরু হতে যাচ্ছে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ? রাশিয়া বলছে, মিয়ানমারে আগামী বছরই শুরু হতে পারে সেই প্রকল্পের কাজ। কিন্তু যুদ্ধ, অর্থনৈতিক সংকট আর নিরাপত্তাঝুঁকির মধ্যে এই প্রকল্প কতটা নিরাপদ? আর কেনই বা মিয়ানমারের সঙ্গে পারমাণবিক সহযোগিতা বাড়াচ্ছে মস্কো?

মিয়ানমারে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ ২০২৭ সালে শুরু করার আশা প্রকাশ করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম।

 

রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ জানিয়েছেন, প্রকল্পটির জন্য সামগ্রিক চুক্তির কাঠামো তৈরি হয়েছে এবং নির্মাণস্থলে প্রবেশের প্রস্তুতি চলছে।

২০২৫ সালের মার্চে স্বাক্ষরিত আন্তঃসরকার চুক্তি অনুযায়ী, মিয়ানমারে ১১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে থাকবে দুটি রিয়্যাক্টর। পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রটির ক্ষমতা ৩৩০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।

পরিকল্পিত প্রকল্পে রাশিয়ার ‘RITM-200N’ চাপযুক্ত পানির রিয়্যাক্টর প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা রয়েছে। কেন্দ্রটি নেপিদোর কাছাকাছি এলাকায় নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

মিয়ানমারের জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের সাম্প্রতিক মস্কো সফরের পর প্রকল্পটি নিয়ে নতুন করে অগ্রগতির ঘোষণা এল। সফরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে দুই দেশের অন্যতম প্রধান যৌথ প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে, প্রকল্পটির অর্থায়ন নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে। সামরিক শাসনের অধীনে থাকা মিয়ানমার বর্তমানে তীব্র অর্থনৈতিক সংকট ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের মধ্যে রয়েছে। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, রাশিয়ার সহজ শর্তের দীর্ঘমেয়াদি ঋণ কিংবা প্রাকৃতিক সম্পদের বিনিময়ে প্রকল্পটির অর্থায়ন হতে পারে।

নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘাত চলছে। এমন পরিস্থিতিতে একটি পারমাণবিক স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষকরা।

অন্যদিকে, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা রাশিয়া ও মিয়ানমারের মধ্যে ২০২১ সালের পর থেকেই অস্ত্র, জ্বালানি ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বেড়েছে।

ফলে, মিয়ানমারের পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নয়, বরং রাশিয়া-মিয়ানমারের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত সম্পর্কেরও গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে উঠছে।

মিয়ানমারে পা’রমাণবিক কেন্দ্র বানাবে রাশিয়া?

যে দেশে এখনো ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ চলছে, সেই দেশেই কি শুরু হতে যাচ্ছে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ? রাশিয়া বলছে, মিয়ানমারে আগামী বছরই শুরু হতে পারে সেই প্রকল্পের কাজ। কিন্তু যুদ্ধ, অর্থনৈতিক সংকট আর নিরাপত্তাঝুঁকির মধ্যে এই প্রকল্প কতটা নিরাপদ? আর কেনই বা মিয়ানমারের সঙ্গে পারমাণবিক সহযোগিতা বাড়াচ্ছে মস্কো?
 
যু’দ্ধের মধ্যেই মিয়ানমারে পা’রমাণবিক প্রকল্প?

মিয়ানমারে ২০২৭ সালে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ শুরুর পরিকল্পনা জানিয়েছে রাশিয়ার রোসাটম। ১১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই কেন্দ্রে দুটি রিয়্যাক্টর থাকবে এবং ভবিষ্যতে ক্ষমতা ৩৩০ মেগাওয়াটে বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তবে, গৃহযুদ্ধ, অর্থনৈতিক সংকট ও নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে প্রকল্পটি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। রাশিয়া ও মিয়ানমার দুই দেশই পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকায়, এই পারমাণবিক সহযোগিতা তাদের কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার ইঙ্গিতও দিচ্ছে।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি