Print Date & Time : 26 October 2026 Monday 10:06 pm

জুড়ী-বড়লেখা সীমান্তে প্রায় ৩০ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা ব্যর্থ করল বিজিবি

image

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলার সীমান্ত দিয়ে ২৫ থেকে ৩০ জনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইনের (অনুপ্রবেশ) চেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গত তিন দিনে দুর্গম পাহাড়ি ও ঘন বনাঞ্চলসংলগ্ন সীমান্তে এসব ঘটনা ঘটে। ৫২ বিজিবির (বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়ন) দ্রুত পদক্ষেপ, নিবিড় নজরদারি ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় এই অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) থেকে রোববার (২৫ অক্টোবর) পর্যন্ত ৫২ বিজিবি (বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়ন) দ্রুত পদক্ষেপ, নিবিড় নজরদারি ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় এসব চেষ্টা প্রতিহত করে।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত এলাকা দিয়ে লোকজনকে পুশইনের চেষ্টার সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্ট সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়। এর মধ্যে ভারতীয় এক মানসিক ভারসাম্যহীন নাগরিককে অবৈধভাবে পুশইনের অপচেষ্টাও চালানো হয়।

মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলা ভারতের আসাম রাজ্যের সীমান্তঘেঁষা। এই অঞ্চলের সীমান্তের একটি বড় অংশ দুর্গম পাহাড়ি ও গভীর জঙ্গলে ঘেরা। এই ভৌগোলিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালানের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। সম্প্রতি ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে পুশইনের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ৫২ বিজিবি আগে থেকেই সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে ছিল।

৫২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আতাউর রহমান জানান, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, “গত তিন দিনে প্রায় ৩০ জনকে আমরা পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করেছি। ড্রোন ক্যামেরা, গোয়েন্দা তথ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে পুরো সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি দিন-রাত টহল জোরদার করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, সীমান্তে আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় থার্মাল ড্রোন ও নাইট ভিশন ডিভাইস ব্যবহার করায় দুর্গম ও ঘন জঙ্গলের ভেতরের যেকোনো গতিবিধি দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, পুশইনের চেষ্টাকারীদের অধিকাংশই বাংলাভাষী। তাদেরকে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় এনে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার পাঁয়তারা চলছিল। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তারা সীমান্ত অতিক্রম করতে ব্যর্থ হয়। এদিকে মানবিক বিবেচনায় বিজিবির হেফাজতে থাকা মানসিক ভারসাম্যহীন ভারতীয় নাগরিকের পরিচয় নিশ্চিত করে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাকে বিএসএফের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

সীমান্তবর্তী সাধারণ মানুষ বিজিবির এই তৎপরতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল মতিন বলেন, "আগে রাতে সীমান্তে বিভিন্ন মানুষের আনাগোনা ও সন্দেহজনক গতিবিধি দেখা যেত। বর্তমানে বিজিবির কঠোর টহল ও নজরদারি বাড়ায় আমরা অনেকটাই নিরাপদ বোধ করছি।"

ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আতাউর রহমান দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, "জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের স্বার্থ সমুন্নত রাখতে ৫২ বিজিবি বদ্ধপরিকর। সীমান্তে কোনো ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ বরদাশত করা হবে না।"

উল্লেখ্য, মৌলভীবাজার জেলার ৫টি উপজেলার সাথে ভারতের প্রায় ৯০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এই দীর্ঘ সীমান্ত রক্ষায় ৫২ বিজিবির পাশাপাশি ৪৬ বিজিবিও দায়িত্ব পালন করছে।  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি