Print Date & Time : 25 October 2026 Sunday 07:47 pm

টঙ্গীতে মাদ্রাসায় শিশুকে যৌন হয়রানির ঘটনায় শিক্ষকের জামিন হয়নি

image

অনলাইন ডেস্ক: গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে মাদ্রাসার অভ্যন্তরে ছয় বছরের শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি ও চুমু দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মো. মোসলেম উদ্দিনের জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

রোববার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক ওমর হায়দার এই আদেশ দেন।

আসামিপক্ষ জামিন চাইলে মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মহিউদ্দিন এর বিরোধিতা করেন। শুনানির আগে বিচারক ভুক্তভোগীর দেওয়া জবানবন্দি দেখার পর শুনানির আদেশ দেন।

মামলার বাদীপক্ষের নিযুক্ত আইনজীবী মহিউদ্দীন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, 'আদালতে জামিনের বিরোধিতা করে আমরা বলেছি, আসামি এখন জামিনে বের হয়ে গেলে তদন্ত কাজে বিঘ্ন ঘটবে। সমাজে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিচারক উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আসামির জামিন আবেদন নাকচ করেন।'

এ মামলায় আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন শরিফুল আলম। তিনি বলেন, 'আমরা আদালতে বলেছি আসামির বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো মামলা নেই, এ মামলায় তার বিরুদ্ধে কোনো তথ্য-প্রমাণ নেই এবং অভিযোগগুলো মিথ্যা। এসব কারণে আমরা আসামির জামিন আবেদন করেছিলাম।'

এদিকে পুলিশ বলছে, মাদ্রাসার ভেতরে ওই শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি ও চুমু দেওয়ার অভিযোগ এবং পরবর্তী পাল্টাপাল্টি মামলাকে কেন্দ্র করে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। 

উভয় মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে গুজব ও অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার। শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে—গণমাধ্যমে প্রকাশিত এমন তথ্য সঠিক নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টঙ্গীর আউচপাড়ার শফিউদ্দিন রোডে অবস্থিত ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় ছয় বছরের এক ছাত্রীকে চুমু দেওয়া ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মোসলেম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়।

তবে এ ঘটনার পর মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরী অভিযোগ করেন, একদল লোক মাদ্রাসায় ঢুকে ভাঙচুর চালিয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর করেছে। এ ঘটনায় তিনি শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।

এই পাল্টা মামলার পর শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে—গণমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশিত হলে ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভিন্ন ভিডিও, মন্তব্য ও বক্তব্য ছড়িয়ে পড়তে থাকে।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত শিশুটির বাবা রুমিকে গ্রেপ্তারে অভিযানের খবর প্রসঙ্গে জিএমপি কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার বলেন, 'মামলা হলে প্রথমেই আসামিকে গ্রেপ্তার আইনের দৃষ্টিতে জরুরি নয়। জরুরি হলো মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত। এই মামলায় আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টার যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, তা সঠিক নয়।' তিনি আরও বলেন, উভয় মামলা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।

এরপর আরেক সাংবাদিক শ্লীলতাহানির অভিযোগের প্রমাণ মিললে, তা কেন প্রকাশ করা হচ্ছে না—এমন প্রশ্ন করলে পুলিশ কমিশনার বলেন, 'প্রমাণ তো নিশ্চয় আছে, যা তদন্তকালে সবার জন্য উন্মুক্ত করার বিষয় নয়।'

—জা.অর্থনীতি/আইবিএম