Print Date & Time : 28 October 2026 Wednesday 05:53 am

ব্যাংক খাতে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা

image

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তুলনামূলক সক্রিয় ব্যাংক খাতেও বিক্রির চাপ বাড়ছে। কয়েক কার্যদিবস ধরে দরপতনের মধ্যে এবার লেনদেনের শীর্ষে থাকা প্রাইম ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক ও সিটি ব্যাংকের শেয়ারদরও কমেছে। ব্যাংক খাতে সর্বোচ্চ লেনদেন হলেও তা বাজারের সামগ্রিক দুর্বলতা কাটাতে পারেনি। অন্যদিকে বস্ত্র খাতেও বড় অঙ্কের শেয়ার হাতবদলের বিপরীতে বেশ কয়েকটি কোম্পানির দর কমেছে। বাজারের এ চিত্রে বিনিয়োগকারীদের একাংশের মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা এবং নতুন বিনিয়োগে সতর্কতার ইঙ্গিত মিলছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সোমবার দিনশেষে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩৩ দশমিক শূন্য ১ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৩৯৯ দশমিক ৫৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সূচকটি ৫ হাজার ৪০০ পয়েন্টের নিচে নেমে এসেছে। বাছাই করা কোম্পানির সূচক ডিএস৩০ কমেছে ১০ দশমিক ৯৮ পয়েন্ট এবং শরিয়াসূচক ডিএসইএস কমেছে ৭ দশমিক ২৫ পয়েন্ট।

বাজারে লেনদেন হওয়া ৩৮৪টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর কমেছে ২৫২টির, বেড়েছে ৭৪টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৫৮টির। ডিএসইর মূল বাজারে লেনদেন হয়েছে ৪১০ কোটি ৫৮ লাখ টাকার, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৪৩০ কোটি ৭২ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

লেনদেনের শীর্ষে থাকা ব্যাংক খাতে মোট ৭৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে যা মূল বাজারের মোট লেনদেনের ২০ দশমিক ৪০ শতাংশ। তবে লেনদেনের এ আধিপত্য শেয়ারদরে ইতিবাচক প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি। প্রাইম ব্যাংকের দর শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমে ৩০ টাকা ৩০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। ব্র্যাক ব্যাংকের দর শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে ৬৭ টাকা ৪০ পয়সা হয়েছে। সিটি ব্যাংকের শেয়ারদর কমেছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ।

ব্যাংক খাতের এ প্রবণতা থেকে বোঝা যায়, বেশি লেনদেন হওয়া মানেই শেয়ারে নতুন ক্রয়চাপ তৈরি হওয়া নয়। শেয়ার কেনাবেচার পরিমাণ বেশি থাকলেও বিক্রির চাপ ক্রেতাদের আগ্রহকে ছাড়িয়ে গেলে দর কমতে পারে।

বস্ত্র খাতেও ছিল উল্লেখযোগ্য লেনদেন। এ খাতে মোট ৭৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে যা ডিএসইর মূল বাজারের মোট লেনদেনের ১৯ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে খাতটিতে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। সাইহাম টেক্সটাইলের শেয়ারদর ৫ দশমিক ৬১ শতাংশ বেড়ে ৪৭ টাকা ১০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। কোম্পানিটির ১৫ কোটি ৭৪ লাখ ৭০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। বিপরীতে মালেক স্পিনিংয়ের শেয়ারদর কমেছে ৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

ওষুধ ও রসায়ন খাতে ৪৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এ খাতে ওরিয়ন ফার্মার দর ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ২৯ টাকা ১০ পয়সায় দাঁড়ালেও অন্যান্য বড় কোম্পানির শেয়ারে তেমন ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়নি। সাধারণ বীমা খাতে লেনদেন হয়েছে ৩৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকার শেয়ার। এ খাতেও বিক্রির চাপের প্রভাব ছিল।

একক কোম্পানির লেনদেনে প্রথম স্থানে থাকা প্রাইম ব্যাংকের শেয়ার হাতবদল হয়েছে ১৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকার। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্র্যাক ব্যাংকের লেনদেন হয়েছে ১৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকার। দুই ব্যাংকের শেয়ারেই দরপতন হওয়ায় লেনদেনের শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রেও বিক্রির চাপের চিত্র স্পষ্ট হয়েছে।

তবে বাজারের সব শেয়ারে একই প্রবণতা ছিল না। মূল বাজারে সর্বোচ্চ দরবৃদ্ধি হয়েছে সাইফ পাওয়ারটেকের, কোম্পানিটির শেয়ারদর ৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেড়ে ৬ টাকা ৪০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে পিপলস লিজিংয়ের দর ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ কমে ১ টাকা ৬০ পয়সায় নেমেছে।

মূল বাজারের দুর্বলতার বিপরীতে ব্লক মার্কেটে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের শেয়ার হাতবদল হয়েছে। দিনটিতে ২৯টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মোট ২৯ কোটি ৪২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের ১১ কোটি ৯৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা, পূবালী ব্যাংকের ৪ কোটি ২ লাখ টাকা, সাইহাম টেক্সটাইলের ৩ কোটি ৮২ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং ব্র্যাক ব্যাংকের ৩ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে।