Print Date & Time : 27 October 2026 Tuesday 10:52 pm

উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজারে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ৬ কোটি টাকার রিসোর্ট

image

কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজারে অবৈধ হোটেল-রিসোর্ট উচ্ছেদে যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। অভিযানের প্রথম দিনে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে একটি চারতলা রিসোর্ট ভবন।

ভবনমালিকের দাবি, ভবনটি নির্মাণে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছিল।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে উখিয়ার ইনানী সৈকত এলাকায় অবস্থিত ভবনটিতে অভিযান চালানো হয়। এতে অংশ নেয় কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) নেতৃত্বে অভিযানে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, এসআরবি, ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর ও আনসার বাহিনী।

কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের ইনানীর নৌবাহিনীর জেটির পূর্ব পাশে তারকা হোটেল রয়েল টিউলিপ। উত্তর পাশে রয়েছে আরেক তারকা হোটেলে বে ওয়াচ। দুই তারকা হোটেলের মধ্যভাগে অবস্থিত চারতলা রিসোর্ট ভবনটি।

বেলা ১১টার দিকে ভবনটির সামনে উচ্ছেদ অভিযানের জন্য এক্সক্যাভেটর নিয়ে আসা হয়। উপস্থিত হন শ্রমিকরাও। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা সেখানে ভিড় করতে শুরু করেন।

দুপুরে ভবনের নিচে এবং দুই পাশে থাকা ১০-১২টি দোকানঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর চারতলা ভবনের কাচের গ্লাস ভেঙে ফেলা হয়। তারপর মূল ভবনের পিলার ভাঙার কাজ শুরু হয়।

এর আগে ১৭ অক্টোবর সকালে মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সৈকতে তিনতলা টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লেগে ১০ পর্যটকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর মেরিন ড্র্রাইভ সড়কের পাশে কউকের অনুমোদন ছাড়া অবৈধভাবে যত্রতত্র হোটেল-রিসোর্ট গড়ে তোলার বিষয়টি আলোচনায় আসে। পরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরুর সিদ্ধান্ত হয়।

অভিযান চলাকালে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) কর্মকর্তারা জানান, অবৈধভাবে নির্মিত চারতলা রিসোর্ট ভবনটি নিজ উদ্যোগে ভেঙে ফেলতে মালিকপক্ষকে চারবার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে নোটিশের পর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই রিসোর্ট ভবনটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে।

ভবনটির মালিক শহিদুল হক বলেন, ২০১৪ সালে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অনুমতি নিয়ে ভবনটির নির্মাণ শুরু হয়। সম্প্রতি ভবনের নিচতলায় কয়েকটি দোকান, দ্বিতীয় তলায় রেস্তোরাঁ এবং তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় পর্যটকদের থাকার জন্য বেশ কয়েকটি কক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছিল। প্রায় ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে ভবনটি নির্মিত ভবনটি কিছুদিনের মধ্যে উদ্বোধনের কথা। তবে এর আগেই এটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো।

নোটিশের জবাব না দেওয়া প্রসঙ্গে শহিদুল হক বলেন, চারটি নোটিশেরই জবাব দিয়েছি। ভবন নির্মাণের বিপরীতে কাগজপত্রও আছে। কিন্তু কেউ তা আমলে নিচ্ছে না।

গত ১৭ অক্টোবর সকালে মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সৈকতে তিনতলা টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লেগে ১০ পর্যটকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর মেরিন ড্র্রাইভ সড়কের পাশে কউকের অনুমোদন ছাড়া অবৈধভাবে যত্রতত্র হোটেল-রিসোর্ট গড়ে তোলার বিষয়টি আলোচনায় আসে। পরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরুর সিদ্ধান্ত হয়।

কউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, ৮০ কিলোমিটারের মেরিন ড্রাইভে ২০০টির মতো রিসোর্ট-কটেজ-রেস্তোরাঁ রয়েছে। বেশির ভাগ কাঠ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি। কোনোটিরই অনুমোদন নেই। সম্প্রতি এসব অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে কউকের পক্ষ থেকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বারবার নোটিশ করার পরও অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ার যৌথ অভিযান চালানো হচ্ছে। মেরিন ড্রাইভে অবৈধ কোনো স্থাপনা রাখতে দেওয়া হবে না।

জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ৮০ কিলোমিটারে মেরিন ড্রাইভের দুই পাশে অনেক অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় (ইসিএ) সমুদ্রসৈকতের ৫০০ গজের মধ্যে এবং শহর এলাকায় পৌরসভার ৩০০ গজের মধ্যে রিসোর্ট-কটেজসহ স্থাপনা নির্মাণ নিষিদ্ধ। যে কারণে মেরিন ড্রাইভের শতাধিক রিসোর্ট-কটেজ-রেস্তোরাঁ কউকের অনুমোদন পায়নি।

উচ্ছেদ অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, মেরিন ড্রাইভে ব্যাঙের ছাতার মতো বেশ কিছু রিসোর্ট-কটেজ নির্মিত হয়েছে। আমরাও চাই অবৈধ হোটেল-রিসোর্টগুলোকে আইনের আওতায় আসুক। কারণ, টুপটাপ রিসোর্টে আগুনে পুড়ে পর্যটকের প্রাণহানি ঘটনায় কক্সবাজারে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।

কক্সবাজার হোটেল গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, কক্সবাজারে তাদের সমিতিতে সদস্যসংখ্যা ১৮৭। সমিতির তালিকাভুক্ত প্রায়ই হোটেল-গেস্টহাউসের অনুমোদন রয়েছে। বাকিগুলোর কাগজপত্র আছে কি না, জানা নেই।

—জা. অর্থনীতি/এনজে