Print Date & Time : 07 November 2026 Saturday 05:22 am

নির্বাচনে হেরেই ব্রাজিল ছেড়ে পালালেন ফ্লাভিও বলসোনারো

image

জাতীয় অর্থনীতি আন্তর্জাতিক: ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হেরে ফ্লাভিও বলসোনারো দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশের পর মার্কিন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসন ব্রাজিলের সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো এবং তার পরিবারকে ভিসা দেবে, যেন তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারেন।

ব্রাজিলের সর্বোচ্চ আদালত অর্থপাচারের এক তদন্তের অংশ হিসেবে বলসোনারোকে তার পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার একদিন পর, মঙ্গলবার এমন তথ্য সামনে আসে। 

বলসোনারো অবশ্য যেকোনো ধরনের অনিয়ম বা অপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং গত সোমবারেও তিনি দাবি করেন, তিনি কখনোই দেশ ছাড়ার কথা ভাবেননি এবং দেশে থেকেই বিরোধীদের নেতৃত্ব দেবেন।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুই ইনাসিও লুলা দা সিলভা যিনি ইতিপূর্বে বলসোনারো পরিবারের বিরুদ্ধে তাদের নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলে ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মার্কিন হস্তক্ষেপ কামনার অভিযোগ তুলেছিলেন। তিনি ডানপন্থী এই সিনেটরের পদক্ষেপকে লজ্জাজনক বলে আখ্যা দিয়ে বলেছেন, নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে তার দেশেই থাকা উচিত ছিল।

রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় নিজের ৮১তম জন্মদিনের উদযাপনের সময় লুলা বলেন, যে ব্যক্তি এভাবে গোপনে দেশ ছেড়ে সটকে পড়ে, নিশ্চিতভাবেই তার কিছু লুকানোর আছে। তিনি আরও বলেন, ব্রাজিল বলসোনারো পরিবারের দ্বিতীয় দেশ, আর যুক্তরাষ্ট্র হলো তাদের প্রথম দেশ।

তিনি বলেন, ব্রাজিল ছেড়ে চলে যাওয়ার এই কাজ অত্যন্ত লজ্জাজনক। সাবেক ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে বলসোনারো শুরুতে নির্বাচনের ফলাফল স্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানান এবং ফলাফল বাতিল চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলে ঘোষণা দেন। 

তবে গত সোমবারে তার দল এক বিবৃতিতে জানায় তারা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছে, যেখানে এই রক্ষণশীল প্রার্থী ৪.৪ মিলিয়নেরও (৪৪ লাখের বেশি) বেশি ভোটে পরাজিত হয়েছেন।

এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন এবং সাংবাদিকদের বলেন, 'এটি আরেকটি কারচুপির নির্বাচন বলে মনে হচ্ছে।'
ভোট গ্রহণে কোনো ধরনের অনিয়ম বা জালিয়াতি ঘটেনি বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। লুলার এই বড় বিজয়ের বিপরীতে বিরোধীরা শেষ মুহূর্তে ভোটের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা করলেও, তা নির্বাচনের ফলাফলে কোনো বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারতো না।

ডেমোক্রেটিক রিপ্রেজেন্টেটিভ জোয়াকিন কাস্ত্রো বলেন, বলসোনারোর ব্রাজিল ছেড়ে চলে যাওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তা ট্রাম্পের মার্কিন কংগ্রেসের কাছে স্পষ্ট করা উচিত।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এক পোস্টে কাস্ত্রো লিখেছেন, 'নির্বাচনে হেরে যাওয়া কোনো রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার ভিত্তি বা কারণ হতে পারে না। তা সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসন ফ্লাভিও বলসোনারোকে যুক্তরাষ্ট্রে নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছে। 

ব্রাজিলে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থপাচার ও মুদ্রা ফাঁকির অভিযোগের তদন্ত চলছে এবং তাকে নিজের সব পাসপোর্ট সমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ব্রাজিলের আইন লঙ্ঘন করে বলসোনারোকে দেশ ছেড়ে পালাতে সহায়তা করার পেছনে কী ভূমিকা ছিল, ট্রাম্প প্রশাসনকে সে বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেসের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।'

ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে অবৈধভাবে লবিং করার অপরাধে গত জুনে (অনুপস্থিত বিচার প্রক্রিয়ায়) দণ্ডপ্রাপ্ত এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বলসোনারোর ছোট ভাই এদুয়ার্দো চলতি মাসের শুরুর দিকে এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে বলেন, নির্বাচনে হেরে গেলে ফ্লাভিওর ব্রাজিল ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, আমার ভাই যদি না জেতে, তবে সে দেশ ছেড়ে চলে যাক আমি এটাই সমর্থন করি।

—জা.অর্থনীতি/জেআরটি