Print Date & Time : 03 November 2026 Tuesday 07:03 pm

ইরানে সম্ভাব্য হামলা, ইসরায়েলে পৌছাল যুক্তরাষ্ট্রের ১০ সামরিক বিমান

image

জাতীয় অর্থনীতি আন্তর্জাতিক: ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইসরায়েলে বিমানঘাঁটিতে ১০টি সামরিক কার্গো বিমান পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া সম্ভাব্য এই হামলার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্রিফ করেছেন দেশটির সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান জেনারেল ব্র্যাড কুপার।

মূলত ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর আশঙ্কার মধ্যে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে তৎপরতা বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েন এবং অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কান (কেএএন) ও মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) কান জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের বিমানগুলো ইসরায়েলের ওভদা ও নেভাতিম বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের আরও কয়েকটি সামরিক বিমান জর্ডান, সৌদি আরব ও কাতারের ঘাঁটিতে পাঠানো হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

কানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট ব্লিস ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর অন্যতম বড় আকাশ প্রতিরক্ষাকেন্দ্র রয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ব্যবস্থা ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন সরঞ্জামও ওই ঘাঁটিতে রয়েছে।

তবে সামরিক কার্গো বিমান পাঠানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিমানগুলোতে কী ধরনের সরঞ্জাম বা পণ্য ছিল, তা-ও স্পষ্ট নয়। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না, সেটিও জানা যায়নি।

ইসরায়েলের এক কর্মকর্তা কান-কে জানিয়েছেন, সামরিক প্রস্তুতির বিষয়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় চলছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করছে। এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত না হলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে সিদ্ধান্তই নিন না কেন, তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে সম্ভাব্য কোনো সিদ্ধান্তের ধরন বা সময় সম্পর্কে ওই কর্মকর্তা বিস্তারিত কিছু জানাননি।

এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে কান জানিয়েছিল, ইরানের বিরুদ্ধে স্বল্পমেয়াদি ও সীমিত সামরিক হামলার সম্ভাবনা নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোকে প্রস্তুতি নিতে বলেছে ওয়াশিংটন।

সম্প্রচারমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে টেক্সাস থেকে একটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থাও সেখানে পাঠানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সম্ভাব্য সামরিক উত্তেজনা মোকাবিলায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওই অঞ্চলের বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে অবস্থানরত সেনাদের সেখান থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা অস্ত্রের মজুত বাড়াচ্ছেন। নভেম্বরে অতিরিক্ত একটি বিমানবাহী রণতরি ও মেরিন কোরের একটি ইউনিট সেখানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব অতিরিক্ত সামরিক শক্তি মধ্যপ্রাচ্যে আগে থেকেই মোতায়েন থাকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২০টি যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে যুক্ত হবে।

এদিকে বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইরানে সম্ভাব্য হামলার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান জেনারেল ব্র্যাড কুপার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অবহিত করেছেন।

পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ধরনের ব্রিফিংয়ের অর্থ হতে পারে, ওয়াশিংটন বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানোর সিদ্ধান্তের আরও কাছাকাছি পৌঁছেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস মারফি জানিয়েছেন, ইরানে হামলার সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে তাকে এবং আরও কয়েকজন সিনেটরকে ব্রিফ করা হয়েছে। এসব পরিকল্পনাকে তিনি ‘পাগলামি’ বলে অভিহিত করেছেন।

মারফি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ নিলে ভয়াবহ সংঘাতের সৃষ্টি হতে পারে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকারও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা চালায়। পরে এপ্রিলে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়।

এরপর জুনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে। তবে প্রণালিটির নিরাপত্তা নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে চুক্তিটির বাস্তবায়ন থমকে রয়েছে।

আর সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ সামরিক সরঞ্জাম ও সেনা মোতায়েনের খবর সামনে এল।

—জা.অর্থনীতি/জেআরটি