Print Date & Time : 07 November 2026 Saturday 04:58 am

নিখোঁজের তিন বছর পর সেফটি ট্যাংক থেকে মরদেহ উদ্ধার

image

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের মাধবপুরে নিখোঁজের প্রায় তিন বছর পর মহব্বত আলী (৫৫) নামে এক ব্যক্তির সেফটিক ট্যাংক থেকে কঙ্কালসার মরদেহ উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। একই সঙ্গে ক্লুলেস এই নিখোঁজ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে প্রধান অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দিবাগত রাতে উপজেলার ২ নম্বর চৌমুহনী ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বাড়ির সেফটিক ট্যাংক থেকে কঙ্কালটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুরো এলাকা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের শেষের দিকে রামনগর গ্রামের বাসিন্দা মহব্বত আলী হঠাৎ নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজনসহ সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে মাধবপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। দীর্ঘদিনেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় বিষয়টি ছায়াতদন্ত শুরু করে হবিগঞ্জ জেলা ডিবি পুলিশ।

তদন্তের ধারাবাহিকতায় তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এক ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে ডিবি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই ওই ব্যক্তি মহব্বত আলীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ সেফটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখার কথা স্বীকার করেন।

পরবর্তীতে আটক আসামির দেওয়া স্বীকারোক্তি ও দেখানো তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রামনগর গ্রামের পরিত্যক্ত ওই বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে সেফটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে নিহত মহব্বত আলীর কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।

হবিগঞ্জ জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিশ্চিত করে জানান, দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত এই নিখোঁজ রহস্য উদঘাটনে নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি রাখা হয়েছিল। আটক আসামির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী কঙ্কাল উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে দীর্ঘ তিন বছর পর স্বজনের কঙ্কাল উদ্ধারের খবর পেয়ে নিহতের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে কান্না ও শোকের মাতম শুরু হয়। স্বজনরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত ঘাতকদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনায় মাধবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং অন্যান্য জড়িতদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি