Print Date & Time : 08 November 2026 Sunday 05:31 am

যশোর বোর্ডে ৪ বছরের সর্বনিম্ন ফল, ১৬ প্রতিষ্ঠানে সবাই ফেল

image

যশোর প্রতিনিধি: যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তি- দুই সূচকেই বড় ধরনের অবনতি ঘটেছে। এ বছর বোর্ডে গড় পাসের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশে, আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ২২৮ জন শিক্ষার্থী। গত চার বছরের ফলাফল পর্যালোচনায় পাসের হার ও জিপিএ-৫- উভয় ক্ষেত্রেই এটি বোর্ডের সর্বনিম্ন রেকর্ড।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম হোসেন আলী স্বাক্ষরিত ফলাফল প্রকাশের বিজ্ঞপ্তি ও পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

আরও পড়ুন: কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার ৪৮.০৪%, জিপিএ-৫ ১,৩১৩

বোর্ডের তথ্যমতে, এ বছর আওতাধীন ১০টি জেলার ৫৭১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ২৪০টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেয়। মোট ১ লাখ ১৭ হাজার ৫১০ জন নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ লাখ ১২ হাজার ৭৯১ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫০ হাজার ৬৬৮ জন। পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ৪৩ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়।

পাস ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে ছাত্রীরা

এবারের ফলাফলে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা পাসের হার ও জিপিএ-৫- উভয় ক্ষেত্রেই এগিয়ে রয়েছে। ৫৪ হাজার ৮১১ জন ছাত্র পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ২১ হাজার ৫০২ জন (পাসের হার ৩৯.২৩%)। অন্যদিকে ৫৭ হাজার ৯৮০ জন ছাত্রী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ২৯ হাজার ১৬৬ জন (পাসের হার ৫০.৩০%)।

এ ছাড়া মোট ৩ হাজার ২২৮ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর মধ্যে ১ হাজার ৮৭০ জনই ছাত্রী, আর ছাত্র ১ হাজার ৩৫৮ জন। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির প্রায় ৫৮ শতাংশই অর্জন করেছে মেয়েরা।

বিভাগভিত্তিক চিত্রে বিজ্ঞানে সর্বোচ্চ পাস

বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগ এগিয়ে থাকলেও মানবিক বিভাগে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি। বিজ্ঞান বিভাগে ২১ হাজার ৬৫৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১৫ হাজার ১৬৭ জন (পাসের হার ৭০.০৩%) এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৮৫৮ জন।

মানবিক বিভাগে ৭৯ হাজার ১৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩০ হাজার ১৯১ জন (পাসের হার ৩৮.২১%) এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ১৬৫ জন।

ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১২ হাজার ১১৫ জনের মধ্যে পাস করেছে ৫ হাজার ৩১০ জন (পাসের হার ৪৩.৮৩%) এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০৫ জন।

জেলাভিত্তিক ফলাফলে শীর্ষে যশোর, সর্বনিম্ন নড়াইল

বোর্ডের আওতাধীন ১০টি জেলার মধ্যে ৫২ দশমিক ৯৪ শতাংশ পাসের হার নিয়ে শীর্ষে রয়েছে যশোর জেলা। সর্বনিম্ন পাসের হার নড়াইল জেলায়, ৩৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

অন্যান্য জেলার মধ্যে খুলনায় ৪৬.৬৫, চুয়াডাঙ্গায় ৪৬.১৩, কুষ্টিয়ায় ৪৫.৩৮, সাতক্ষীরায় ৪৩.৪৫, ঝিনাইদহে ৪১.৯৮, মেহেরপুরে ৪০.৭৬, বাগেরহাটে ৩৮.৮৬ এবং মাগুরায় ৩৭.৩৬ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে।

ধারাবাহিক নিম্নমুখী পাসের হার ও শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬৯.৮৮% (জিপিএ-৫ ৮,১২২ জন), ২০২৪ সালে ৬৪.২৯% (জিপিএ-৫ ৯,৭৪৯ জন) এবং ২০২৫ সালে কমে দাঁড়ায় ৫০.২০% (জিপিএ-৫ ৫,৯৯৫ জন)। চলতি বছর পাসের হার আরও কমে ৪৪.৯২% এবং জিপিএ-৫ নেমে দাঁড়িয়েছে ৩,২২৮ জনে। ২০২৩ সালের তুলনায় চলতি বছর পাসের হার কমেছে ২৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ পয়েন্ট।

এবারের ফলাফলেও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক চিত্র অত্যন্ত হতাশাজনক। ৫৭১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোনো প্রতিষ্ঠানই শতভাগ পাসের সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। বিপরীতে ১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

ফল পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ

প্রকাশিত ফলাফলে সংক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আগামী ১ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত অনলাইন প্রক্রিয়ায় উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করতে পারবে বলে জানিয়েছেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম হোসেন আলী।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি