আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে ইউক্রেনের সামরিক উপগ্রহ নেটওয়ার্ক ‘স্টারশিল্ড’ ব্যবহারের চুক্তির মেয়াদ আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে শেষ হতে চলেছে। এ জন্য নতুন একটি চুক্তি সম্পন্ন করতে কিয়েভ ওয়াশিংটনের সাথে এখনই জরুরি ভিত্তিতে আলোচনা শুরুর চেষ্টা করছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এক ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইউক্রেনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স দেনিস সিয়েনিক। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের তৈরি স্টারশিল্ড সামরিক উপগ্রহ নেটওয়ার্কটি রুশ আগ্রাসনের মুখে ইউক্রেনীয় বাহিনীর রণক্ষেত্রের যোগাযোগে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।
ইউক্রেন যুদ্ধে স্টারশিল্ডের অপরিহার্য ভূমিকা সম্প্রতি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যখন গত মাসে রণক্ষেত্রে থাকা ইউক্রেনীয় কমান্ডাররা লক্ষ্য করেন যে এই স্যাটেলাইট সংযোগে হঠাৎ করেই গতির সীমাবদ্ধতা (স্পিড লিমিট) আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে আকাশপথে রুশ আক্রমণাত্মক ড্রোন প্রতিহত করার সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হয় এবং কিছু অভিযান বাতিল করতে বাধ্য হয় ইউক্রেন। তবে এই অচলাবস্থা নিয়ে হোয়াইট হাউস, পেন্টাগন কিংবা স্পেসএক্সের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাদের কেউই কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা কারণ জানায়নি বলে অভিযোগ করেছেন ইউক্রেনীয় কূটনীতিক দেনিস সিয়েনিক।
স্টারশিল্ড সংক্রান্ত এই সংকট এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ওয়াশিংটন ও কিয়েভের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেন জানিয়েছে, রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য পেতে তারা বিলম্ব বা ঘাটতির মুখোমুখি হয়েছে। এছাড়া প্রতিরক্ষার জন্য অপরিহার্য প্যাট্রিয়ট ও নাসামস আকাশপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গোলাবারুদ সরবরাহে মার্কিন বিলম্বের পাশাপাশি রাশিয়ার সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডিজেল চুক্তির কড়া সমালোচনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং এর জেরে মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর প্রেক্ষাপটে রুশ তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলার সমালোচনা করেছেন স্বয়ং ট্রাম্প।
স্টারশিল্ডে গতি কমানোর ঘটনায় মার্কিন কংগ্রেসের প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা ইলন মাস্ককে চিঠি পাঠিয়ে ব্যাখ্যা দাবি করেছেন। তবে গত ২৪ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় মাস্ক দাবি করেন, স্টারশিল্ড মূলত মার্কিন সরকারের নিয়ন্ত্রণেই পরিচালিত হয়; একই সাথে তিনি সংঘাতকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার পক্ষের ব্যক্তিদের সমালোচনা করেন। এদিকে জার্মান রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জেডডিএফকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানান, যুদ্ধের শুরুর দিকে ইন্টারনেট ও সামরিক সংযোগ দেওয়ার জন্য তারা স্পেসএক্সের প্রতি কৃতজ্ঞ হলেও বর্তমান যুদ্ধ নিয়ে ইলন মাস্কের বিতর্কিত রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে ইউক্রেন কোনোভাবেই একমত নয়।
জেএ/অভি