Print Date & Time : 07 November 2026 Saturday 09:59 am

আকর্ষণীয় সাদা পেকিন হাঁস পালনে স্বাবলম্বী জাহিদ

image

নাটোর প্রতিনিধি: কওমি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করা তরুণ জাহিদ হাসান এখন সফল হাঁস খামারি ও উদ্যোক্তা। আকর্ষণীয় সাদা রঙের পেকিন হাঁস পালন ও বাচ্চা উৎপাদনের মাধ্যমে তিনি নিজেকে স্বাবলম্বী করে তুলেছেন। মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে গড়ে তুলেছেন বিশালাকার হাঁসের খামার ও বাচ্চা উৎপাদনের হ্যাচারি। বর্তমানে সব খরচ বাদ দিয়ে তার মাসিক আয় লাখ টাকার বেশি। জাহিদের এই অভূতপূর্ব সাফল্যে বদলে গেছে তার পুরো পারিবারিক আর্থিক অবস্থাও।

জাহিদ হাসানের বাড়ি নাটোরের সিংড়া উপজেলার নুরপুর গ্রামে। সরেজমিনে তার খামারে গিয়ে কথা হয় এই তরুণ উদ্যোক্তার সঙ্গে। জাহিদ জানান, ২০১৪ সাল থেকে তিনি খাকি ক্যাম্পবেল জাতের হাঁস পালন শুরু করেন। তবে আশানুরূপ লাভ না হওয়ায় নতুন কিছু করার চিন্তা করেন। তিন বছর আগে ইউটিউবে সাদা রঙের পেকিন হাঁস পালনের ভিডিও দেখে এ জাতের হাঁস পালনে আগ্রহী হন। এরপর পুকুর লিজ নিয়ে শুরু করেন পেকিন হাঁসের খামার। বর্তমানে তার খামারে প্রায় ১ হাজার ৭০০টি হাঁস রয়েছে।

খামার সূত্রে জানা গেছে, পেকিন হাঁস মূলত মাংস উৎপাদনের জন্য পালন করা হলেও এ জাতের স্ত্রী হাঁস প্রচুর ডিম দেয়। জাহিদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি পেকিন হাঁস বছরে প্রায় ২০০টি ডিম দেয়। এসব ডিমের বাজারমূল্য সাধারণ হাঁসের ডিমের তুলনায় অনেক বেশি। প্রতিটি বাচ্চা ফুটানোর উপযোগী ডিম তিনি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি করেন। এছাড়া ৪৫ থেকে ৬০ দিনে একটি পেকিন হাঁসের ওজন প্রায় ৩ কেজি এবং ৩ থেকে ৪ মাসে ৪ থেকে ৫ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে।

হাঁসের খাবারের বিষয়ে জাহিদ বলেন, "ধান ও ফিডের পাশাপাশি চলনবিল থেকে প্রাকৃতিক উপায়ে শামুক সংগ্রহ করে হাঁসকে খাওয়ানো হয়। এতে খাদ্যের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি খামার পরিচালনায় স্থানীয় প্রাকৃতিক সম্পদকেও কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে।"

হাঁস পালনের পাশাপাশি জাহিদ নুরপুর বাজারে গড়ে তুলেছেন ‘চলনবিল হ্যাচারি’ নামের একটি বাচ্চা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। সেখানে পেকিন হাঁসের ডিম থেকে কৃত্রিম উপায়ে বাচ্চা ফুটানো হয়। প্রতিটি বাচ্চা ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করেন তিনি। বর্তমানে তার খামার ও হ্যাচারি মিলিয়ে চারজন কর্মচারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

সফল উদ্যোক্তা জাহিদ হাসান আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, "খামার ও হ্যাচারির সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতি মাসে আমার এক লাখ টাকার বেশি নিট লাভ থাকে। এই ব্যবসার আয় দিয়ে নিজের জন্য পাকা বাড়ি করেছি, কিছু ধানি জমিও কিনেছি। বর্তমানে খামার ও হ্যাচারি মিলে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার মূলধন বিনিয়োগ রয়েছে। ভবিষ্যতে এই খামারকে আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার ইচ্ছা আছে।"

এ বিষয়ে সিংড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তাশরিফুল ইসলাম জানান, "তরুণ উদ্যোক্তাদের হাঁস পালনে আমরা নিয়মিত বৈজ্ঞানিক পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি। হাঁস পালনের প্রয়োজনীয় টেকনিক্যাল সহায়তা, ওষুধসংক্রান্ত পরামর্শ ও ভ্যাকসিন বিনামূল্যে দেওয়া হয়। সিংড়া উপজেলায় বেশ কয়েকটি পেকিন হাঁসের খামার রয়েছে। সঠিক নিয়ম মেনে পালন করতে পারলে এটি অত্যন্ত লাভজনক একটি খাত। এ ধরনের উদ্যোগ বাড়লে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক কর্মসংস্থান ও প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।"  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি