নিকলী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: হাওরের পানি কমে আসতেই মাছ ধরার আনন্দ আর উৎসবে মেতে উঠেছেন কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার কারপাশা ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) কারপাশার ঐতিহাসিক অলি মিয়ার খালে দেখা মিলল আবহমান গ্রামবাংলার চিরচেনা ও আনন্দঘন এক দৃশ্যের।
শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বৃদ্ধ-সব বয়সি মানুষ মাছ শিকারে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কারও হাতে পরিপাটি জাল, আবার কারও হাতে দেশীয় নানা মাছ ধরার সরঞ্জাম; সব মিলিয়ে দলবেঁধে মাছ ধরার এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে পুরো খালপাড়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হেমন্তের শুরুতে খালের পানি নেমে যাওয়ায় দেশীয় প্রজাতির মাছ ধরার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে। খালে পুঁটি, টেংরা, শিং ও বিভিন্ন ছোট মাছ পাওয়া যাওয়ায় শুক্রবার সকাল থেকেই স্থানীয়দের অনেকেই নেমে পড়েন মাছ শিকারে। কেউ পলো, কেউ ঠেলা জাল বা কোঁচ, আবার কেউ সাধারণ ছিপ বা হাত জাল দিয়ে মাছ ধরছেন। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের মধ্যে মাছ ধরার এই উল্লাস ও উৎসাহ ছিল দেখার মতো।
স্থানীয় বাসিন্দা আমির হোসেন (৪৫) স্মৃতিচারণা করে বলেন, "ছোটবেলা থেকেই বাপ-দাদাদের এভাবে খালে মাছ ধরতে দেখে আসছি। তাদের দেখেই আমাদের মধ্যেও মাছ ধরার দারুণ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আমাদের কাছে মাছ ধরা কেবল জীবিকা বা খাদ্যের জোগান নয়; এটি আমাদের চিরচেনা শখ ও আনন্দের একটি বড় অংশ।"
হাওরবেষ্টিত নিকলী উপজেলার মানুষের জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে জলাশয় ও মাছ ধরার সম্পর্ক বহু পুরোনো। আধুনিকতার ছোঁয়া ও সময়ের পরিবর্তনে গ্রামীণ জীবনে নানা পরিবর্তন এলেও অলি মিয়ার খালের এই দৃশ্য যেন সেই পুরোনো দিনের গ্রামীণ আবহ ও হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকেই আবার ফিরিয়ে এনেছে।
জীবিকার তাগিদ, শৈশবের নস্টালজিয়া আর পারস্পরিক আনন্দের এক অপূর্ব মেলবন্ধনে পরিণত হয়েছে অলি মিয়ার খালের এই মাছ ধরার আয়োজন, যা স্থানীয় মানুষের মনে ছড়িয়ে দিয়েছে অনাবিল আনন্দ।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি