Print Date & Time : 08 November 2026 Sunday 01:30 am

আয় কম, খরচ বেশি: নূরউদ্দিনের পরিবারের বেঁচে থাকার আকুতি

image

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: অটোরিকশা চালিয়ে প্রতিদিনের আয় দিয়ে চাল, ডাল, তেল, ওষুধ, ঘরভাড়া, বাচ্চাদের লেখাপড়া চলছে না। একদিন কাজ থাকলে আরেক দিন থাকে না। কোনো দিন রিকশা নষ্ট হয়, কোনো দিন যাত্রী মেলে না।

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের নাদামপুর গ্রামের নূরউদ্দিনের অর্থনৈতিক এই টানাপোড়েনে সবচেয়ে বেশি ভুগছে শিশুরা।

নূরউদ্দিনের ঘরটা দেখলে মনে হবে, এটা কি থাকার মতো জায়গা? ভাঙা বেড়া, ছিদ্রযুক্ত টিনের চাল। বৃষ্টি নামলেই ঘরে পানি পড়ে। রাতে শিশুরা ভেজা মাটিতে শুয়ে থাকে। শীতের রাতে গায়ে দেওয়ার মতো ভালো একটা কাঁথাও নেই সবার।

ছেলে-মেয়েদের গায়ে ছেঁড়া জামা। পায়ে জুতা নেই অনেকের। লেখাপড়ার বয়স পেরিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু স্কুলে পাঠানোর মতো টাকা নেই বাবার কাছে। খাবারই জোটে না ঠিকমতো। বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থাও নেই পরিবারটিতে।

কথা বলতে গিয়ে গলা ধরে আসে নূরউদ্দিনের। চোখ মুছতে মুছতে বলেন, আমি নিজের জন্য কিছু চাই না। আমার বাচ্চাগুলার মাথার ওপর একটা ছাদ চাই। ওরা যাতে বৃষ্টিতে না ভেজে, না খাইয়া না ঘুমায় — এইটাই চাই।

স্থানীয়রা বলছেন, নূরউদ্দিন অত্যন্ত সৎ ও পরিশ্রমী মানুষ। কারো কাছে হাত পাতেন না। কিন্তু এখন পরিস্থিতি এমন জায়গায় গেছে, সাহায্য ছাড়া এই পরিবারটি আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।

একটা নিরাপদ ঘর, একটু খাবার, বাচ্চাদের লেখাপড়ার সুযোগ — এইটুকু পেলেই বদলে যেতে পারে ৫টি নিষ্পাপ শিশুর ভবিষ্যৎ। অর্থনৈতিকভাবে একটু ঘুরে দাঁড়াতে পারলেই এই পরিবারটি আবার নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবে।

—জা.অর্থনীতি/এনজে