Print Date & Time : 07 November 2026 Saturday 03:53 pm

বিনিয়োগে গতি নেই কর্মসংস্থান সামান্যই (ভিডিও)

image

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: বড় বিনিয়োগ ও ১৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নিয়ে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে গড়ে তোলা হয় জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল। ৩৩ হাজার একর জমির এই শিল্পাঞ্চলে ২০৩০ সালের মধ্যে ১৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা দেখানো হয়েছিল।

তবে প্রায় এক দশক পেরিয়ে গেলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। বর্তমানে মাত্র ১৭টি কারখানায় উৎপাদন চলছে। নির্মাণাধীন আরও ২৪টি। সব মিলিয়ে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ২০ হাজার মানুষের। অর্থাৎ বিনিয়োগে গতি নেই কর্মসংস্থান সামান্যই।

 

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ ( বেজা)  ২০২৬ সালের মধ্যে এনএসইজেডসহ পাঁচটি অগ্রাধিকার অর্থনৈতিক অঞ্চলে সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ এবং ২ লাখ ৩৮ হাজার কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল। অন্যদিকে, পরিকল্পিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে শুধু মিরসরাইয়েই ২০৩০ সালের মধ্যে ১৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ এলাকা উচ্ছেদ করে গড়ে তোলা এই বিশাল শিল্পাঞ্চলে পুনরুদ্ধার করা জমিকে উৎপাদনশীল করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এখনও পুরোপুরি তৈরি হয়নি।
 
বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পকেন্দ্র হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও জমি হস্তান্তর, অবকাঠামো ও ইউটিলিটি সংকটে প্রত্যাশিত গতি পাচ্ছে না মিরসরাই জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এনএসইজেড)।

অর্থনৈতিক অঞ্চলটিতে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) প্রায় ৫০০ একর জমি বরাদ্দ পেলেও এখনও পুরো জমির দখল বুঝে পায়নি। সংস্থাটির সাবেক সহ-সভাপতি রাকিবুল আলম চৌধুরীর মতে, জমির সীমানা নির্ধারণ, সড়ক নির্মাণ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা নতুন করে ঝুঁকি নিতে চাইছেন না।

ইতোমধ্যে কারখানা স্থাপন করা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির অনিয়মিত সরবরাহের কারণে উৎপাদন পরিচালনায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। শিল্পোদ্যোক্তাদের মতে, নিরবচ্ছিন্ন ইউটিলিটি সরবরাহ ছাড়া বড় বিনিয়োগ লাভজনক করা কঠিন।

এ ছাড়া শ্রমিকদের আবাসন, পরিবহন, ব্যাংকিং ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবার ঘাটতি রয়েছে। প্রধান জনবসতি থেকে দূরত্ব এবং রাতে পর্যাপ্ত আলোর অভাব শ্রমিকদের কর্মস্থল হিসেবে এলাকাটিকে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে অনুমোদন নেওয়ার জটিলতা কমাতে কার্যকর ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুর দাবি জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি আমিরুল হকের মতে, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও শ্রমিকদের আবাসন নিশ্চিত করা গেলে এখানে বিনিয়োগ আকর্ষণ করা কঠিন হবে না।

অন্যদিকে, জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের সাবেক পরামর্শক আবদুল কাদের খান জানিয়েছেন, পরিকল্পিত শিল্পকারখানাগুলো চালু হলে প্রায় ১৪ লাখ মানুষের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান হতে পারে।

তবে এই বিপুল সম্ভাবনা বাস্তবায়নে সড়ক, পানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো নির্মাণে সমন্বিত সরকারি উদ্যোগ এবং পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে জমির অভাব নেই। রয়েছে কৌশলগত অবস্থান ও বিপুল বিনিয়োগের সম্ভাবনা। কিন্তু প্রায় এক দশক পরও ১৫ লাখ কর্মসংস্থানের লক্ষ্যের বিপরীতে কর্মসংস্থান হয়েছে মাত্র ২০ হাজার মানুষের।

তাই এখন প্রয়োজন দ্রুত জমি হস্তান্তর, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহ, উন্নত সড়ক যোগাযোগ, শ্রমিক আবাসন এবং দক্ষ জনবল তৈরির উদ্যোগ।

পরিকল্পিত ১৯ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ কতটা বাস্তবে রূপ নেবে, তা নির্ভর করছে এসব অবকাঠামো ও ব্যবসায়িক পরিবেশ কত দ্রুত নিশ্চিত করা যায়, তার ওপর।  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি