প্রযুক্তি ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারে প্রযুক্তি খাতের প্রধান সূচক নাসডাকের বড় ধরনের দরপতনের জের ধরে এশিয়ার পুঁজিবাজারে চিপ প্রস্তুতকারক ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারে বড় ধস নেমেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামোতে বিশাল বিনিয়োগের বিপরীতে কাঙ্ক্ষিত আয় বা রিটার্ন পাওয়া নিয়ে নতুন করে তৈরি হওয়া শঙ্কার কারণে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) এশীয় বাজারজুড়ে শেয়ার বিক্রির তীব্র চাপ তৈরি হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও সিএনবিসি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত রাতের সেশনে মার্কিন পুঁজিবাজারের প্রযুক্তি সূচক নাসডাক কম্পোজিট ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমে যায়। একই সঙ্গে ফিলডেলফিয়া সেমিকন্ডাক্টর ইনডেক্স ১২ দশমিক ২ শতাংশ নিচে নেমে আসে। ওয়াল স্ট্রিটের এই তীব্র পতনের ধাক্কা সরাসরি আঘাত হানে এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় চিপ ও সেমিকন্ডাক্টর নির্মাতা দেশগুলোতে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান মেমোরি চিপ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এসকে হাইনিক্সের শেয়ার দর একদিনেই ৮ শতাংশের বেশি এবং স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের শেয়ার দর ৭ শতাংশ কমেছে। এর পাশাপাশি এলজি ইনোটেক ১০ শতাংশ এবং এলজি ডিসপ্লে ৭ দশমিক ৭ শতাংশ দর হারিয়েছে।
জাপানের পুঁজিবাজারেও চিপ ও প্রযুক্তি খাতে বড় পতন দেখা গেছে। চিপ-পরীক্ষার যন্ত্রপাতি নির্মাতা অ্যাডভানটেস্টের শেয়ার দর ১২ দশমিক ২ শতাংশ এবং টোকিও ইলেকট্রনের শেয়ার দর ৭ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। এছাড়া প্রযুক্তি খাতের বৃহৎ বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান সফটব্যাংক গ্রুপের শেয়ার দর ১১ দশমিক ৬ শতাংশ ধসে পড়েছে। কিওক্সিয়া হোল্ডিংসের দর প্রায় ১০ শতাংশ এবং রেনেসাস ইলেকট্রনিকসের দর কমেছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ।
তাইওয়ানের প্রযুক্তি খাতেও এর বড় প্রভাব পড়েছে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় চুক্তিভিত্তিক চিপমেকার টিএসএমসির শেয়ার দর ৯ দশমিক ৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। পাশাপাশি ইলেকট্রনিকস প্রতিষ্ঠান ফক্সকন এবং এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দরও ৯ শতাংশের বেশি কমেছে। এছাড়া চীনের পুঁজিবাজারের প্রযুক্তি-প্রধান সূচকগুলোও ৪ শতাংশের বেশি দর হারিয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এআই খাতের এই আকস্মিক দরপতনের পেছনে মূল কারণ যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ডাটা সেন্টার সম্প্রসারণে সম্ভাব্য রাজনৈতিক বাধা ও কড়াকড়ি। সম্প্রতি মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের শক্তিশালী অবস্থানের পর ডেটা সেন্টার স্থাপন এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর আইনি বিধিনিষেধ আরও কড়া হতে পারে বলে বাজারে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। ফলে এআই চিপের বৈশ্বিক চাহিদা ও সরবরাহ চেইনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করে নিরাপদ অবস্থানে চলে যাচ্ছেন।
গোল্ডম্যান স্যাকসের এশিয়া প্যাসিফিক ইক্যুইটি প্রধান কৌশলবিদ টিমোথি মো জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডেটা সেন্টার নির্মাণের গতি ও পরিধি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে এশিয়ার এআই হার্ডওয়্যার ও চিপ সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর ওপর। আস্থার সংকটের কারণে বাজার এই মুহূর্তে দ্রুত শেয়ার বিক্রি করে ঝুঁকি কমানোর নীতি নিয়েছে।