Print Date & Time : 08 November 2026 Sunday 12:17 am

কানাডার শুল্ক প্রত্যাহারে ডেমোক্র্যাটদের উদ্যোগ

image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কানাডার ওপর যে শুল্ক আরোপ করেছিলেন তা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তিনি বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য পুনরুদ্ধার হলে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় কমবে এবং দেশটির শ্রমিকরাও উপকৃত হবেন।

এপি জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে অটোয়া। সাংবাদিকদের কার্নি বলেন, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্যব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার যেকোনো উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানাবেন। তার মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে চাপে থাকা মার্কিন পরিবারগুলোর জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ।

কার্নি বলেন, ভালো বেতনের চাকরি ও কর্মসংস্থানের স্থিতিশীলতা চান এমন মার্কিন শ্রমিকদের জন্যও মুক্ত বাণিজ্য উপকারী হবে। কানাডার স্বার্থে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর কানাডা নতুন এক সিদ্ধান্তের মুখে পড়েছে। ট্রাম্পের শুল্ক আংশিক কমানোর বিনিময়ে কোনো চুক্তি করবে, নাকি সব শুল্ক প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে। নির্বাচনের ফল কানাডার আলোচনার অবস্থান বদলেছে কি না, সে বিষয়ে কার্নি কিছু বলেননি।

সিনেটের অর্থবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান হতে পারেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর রন ওয়াইডেন। তিনি কানাডার ওপর আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। মিশিগানের ডেমোক্র্যাট সিনেটর আবদুল এল-সাইদও কানাডার ওপর শুল্ক বন্ধ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এর আগে সিনেটে ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার গত সেপ্টেম্বরে ট্রাম্পের বিভিন্ন শুল্ক প্রত্যাহারের লক্ষ্যে একটি বিল উত্থাপন করেছিলেন। এর মধ্যে কানাডার পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্কও রয়েছে। তবে কার্নি জানিয়েছেন, শুল্ক প্রত্যাহারের সম্ভাব্য আইন নিয়ে তিনি ওয়াইডেন বা অন্য কোনো ডেমোক্র্যাট নেতার সঙ্গে কথা বলেননি।

ট্রাম্পের হাতে এখনও বাণিজ্যনীতির ওপর ব্যাপক ক্ষমতা রয়েছে। ফলে কংগ্রেস শুল্ক প্রত্যাহারের আইন পাস করলেও তিনি তাতে ভেটো দিতে পারেন। সেই ভেটো ঠেকাতে ডেমোক্র্যাটদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রিপাবলিকান আইনপ্রণেতার সমর্থন প্রয়োজন হবে।

গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করে কানাডা। কার্নির অভিযোগ ছিল, ওয়াশিংটনের কিছু দাবি কানাডার সার্বভৌমত্ব এবং ফরাসি ভাষী জনগোষ্ঠীর অধিকার ও সুরক্ষার জন্য হুমকি তৈরি করছে। এর পর ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধে কানাডার কয়েকশ কোটি ডলারের পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয়। জবাবে কানাডাও পাল্টা ব্যবস্থা নেয়।

এ ছাড়া ট্রাম্প একাধিকবার কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। পাশাপাশি কানাডার গাড়ি উৎপাদন যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নেওয়ার জন্যও চাপ দিয়ে আসছেন। গত জানুয়ারি থেকে কানাডার গাড়ির ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছেন ট্রাম্প। এতে কানাডার গাড়ি শিল্পের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। ফলে এখন অটোয়াকে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে—আংশিক শুল্ক কমানোর চুক্তি করবে, নাকি যুক্তরাষ্ট্রের সব শুল্ক প্রত্যাহারের জন্য অপেক্ষা করবে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্কের কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ট্রাম্প গত রোববার বলেছেন, দুই দেশ একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। কার্নিও জানিয়েছেন, কানাডার ফরাসি ভাষা, সংস্কৃতি এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করার সক্ষমতা নিয়ে ওয়াশিংটন আগের কিছু দাবি থেকে সরে এসেছে।