Print Date & Time : 08 November 2026 Sunday 12:07 am

নাটকীয় প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের

image

ক্রীড়া প্রতিবেদক: সিলেট টেস্টের চিত্রটা একসময় বাংলাদেশের জন্য ছিল ভীষণ হতাশার। ব্যাটিং বিপর্যয়ে ১৩৮ রানেই হারিয়েছিল পাঁচ উইকেট। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩৫৬ রানের জবাবে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কাও তখন প্রবল। কিন্তু তাওহীদ হৃদয় একাই পাল্টে দিলেন ম্যাচের দৃশ্যপট। তার অবিশ্বাস্য ডাবল সেঞ্চুরিতে শুধু বিপর্যয়ই সামাল দেয়নি বাংলাদেশ, বরং ক্যারিবীয়দের ছাড়িয়ে প্রথম ইনিংসে পেয়েছে ৩০ রানের লিড। এরপর উইন্ডিজ দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ ওভার বিনা উইকেটে ৭ রান তোলার পর তৃতীয় দিনের খেলা শেষ হয়েছে। সফরকারীরা এখনও পিছিয়ে ২৩ রানে।

গতকাল তৃতীয় দিনের শুরুতে তিন উইকেটে ৮৮ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। দিনের শুরুতেই মুশফিকুর রহিমের বিদায়ে চাপে পড়ে দল। হৃদয়ের সঙ্গে ৭৩ রানের জুটি গড়ার পর ৩৪ রান করে ফেরেন তিনি। এরপর লিটন দাসও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। জোমেল ওয়ারিকানের বলে কাভারে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার।

হৃদয়ের সঙ্গে ৪১ রানের জুটি গড়ে বিদায় নেন মেহেদী হাসান মিরাজও। এরপর হাসান মাহমুদের বিদায়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৮৪ রানে সাত উইকেট। তখনও ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে ১৭২ রানে পিছিয়ে স্বাগতিকেরা। ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছিল।

কিন্তু এক প্রান্তে অবিচল ছিলেন হৃদয়। তার ব্যাটে ভর করেই ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখতে শুরু করে বাংলাদেশ। অষ্টম উইকেটে তাইজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে গড়েন ১১৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। ৫৬ বলে ২২ রান করে তাইজুল বিদায় নিলেও হৃদয়ের লড়াই থামেনি। বরং শেষ স্বীকৃত ব্যাটার তাসকিন আহমেদকে নিয়ে আরও ৮৫ রান যোগ করেন তিনি।

এই জুটির মধ্যেই নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দেন হৃদয়। ৩০৪ বলে ২০০ রান পূর্ণ করার পরও থামেনি তার ব্যাট। শেষ পর্যন্ত ৩৫৯ বলে ২৪২ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। ফিল্ডিংয়ের সময় চোট পাওয়ায় সাদমান ইসলাম ব্যাটিংয়ে নামতে না পারায় নবম উইকেটের পতনেই শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস।

১১১ দশমিক ৫ ওভারে ৩৮৬ রান করে বাংলাদেশ। দলের অন্য ব্যাটারদের সম্মিলিত সংগ্রহ যেখানে ১৪৪, সেখানে হৃদয় একাই করেছেন ২৪২ রান। মুশফিকের ৩৪, তাইজুলের ২২, নাজমুলের ১৮ এবং মিরাজ ও তানজিদের ১৬ রান করে অবদান থাকলেও বাংলাদেশের ইনিংসের মূল কারিগর ছিলেন হৃদয়।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল জোমেল ওয়ারিকান। ১০৪ রান খরচায় চার উইকেট নিয়েছেন তিনি। জেডেন সিলস পেয়েছেন দুটি উইকেট।

সব মিলিয়ে প্রথম ইনিংসে ৩০ রানের লিড নিয়ে স্বস্তি ফিরেছে বাংলাদেশ শিবিরে। যে দলটি একসময় বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কায় ছিল, তারাই এখন ম্যাচে এগিয়ে। হৃদয়ের অসাধারণ ইনিংসের সুবাদে সিলেট টেস্টে নতুন করে তৈরি হয়েছে জয়ের সম্ভাবনা।

দিনের শেষ ভাগে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে চার ওভারে বিনা উইকেটে সাত রান তুলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ব্র্যান্ডন কিং পাঁচ এবং জশুয়া দা সিলভা দুই রানে অপরাজিত আছেন। এখনও বাংলাদেশের চেয়ে ২৩ রানে পিছিয়ে রয়েছে সফরকারীরা।

তবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিতে হলে চতুর্থ দিনে বোলারদের দায়িত্বটা ভালোভাবে পালন করতে হবে বাংলাদেশকে। সিলেটের উইকেট এখনও ব্যাটিংয়ের জন্য অনুকূল। তাই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বড় সংগ্রহ গড়ার আগেই আটকে রাখাই হবে স্বাগতিকদের প্রধান লক্ষ্য।

১৩৮ রানে পাঁচ উইকেট হারানোর পর যে বাংলাদেশ বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কায় ছিল, সেই বাংলাদেশই এখন লিড নিয়ে এগিয়ে। তৃতীয় দিনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি তাই শুধু হৃদয়ের ২৪২ রানের ইনিংস নয়, তার হাত ধরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়াও। সিলেট টেস্টে এখন লড়াই জমেছে নতুন করে।