Print Date & Time : 08 November 2026 Sunday 05:23 pm

কীভাবে এক্স-রে বদলে দিল চিকিৎসাবিজ্ঞানের ধারা (ভিডিও)

image

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: চিকিৎসকের সামনে রোগী, কিন্তু শরীরের ভেতরে কী ঘটছে, তা বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই। হাড় ভেঙেছে কি না, ফুসফুসে সমস্যা আছে কি না, কিংবা শরীরের কোথাও কোনো বস্তু আটকে আছে কি না—এসব জানতে একসময় চিকিৎসকদের অনেকটাই নির্ভর করতে হতো শারীরিক পরীক্ষা ও অস্ত্রোপচারের ওপর। ১৮৯৫ সালে এক আবিষ্কার বদলে দেয় সেই বাস্তবতা। সেটি এক্স-রে প্রযুক্তি।

জার্মান পদার্থবিদ উইলহেল্ম কনরাড রন্টগেন ১৮৯৫ সালের ৮ নভেম্বর জার্মানির উর্জবুর্গে পরীক্ষাগারে কাজ করার সময় অদৃশ্য এক ধরনের রশ্মির অস্তিত্ব শনাক্ত করেন। তিনি দেখেন, কালো কার্ডবোর্ডে ঢাকা একটি বৈদ্যুতিক নল চালু করলে কাছের বিশেষ পর্দা আলো ছড়াচ্ছে। নানা পরীক্ষা করে বুঝতে পারেন, অজানা রশ্মি কিছু বস্তু ভেদ করতে পারে, আবার ঘন বস্তুতে বাধা পায়। রশ্মিটির প্রকৃতি তখন অজানা ছিল বলে তিনি নাম দেন এক্স-রে। অজানা বিষয় বোঝাতে গণিতে ব্যবহৃত ‘এক্স’ থেকেই এই নাম।

 

রন্টগেন তার স্ত্রী আনা বার্থার হাতের ছবি তোলেন। ছবিতে হাড়ের পাশাপাশি আঙুলের আংটিও স্পষ্ট দেখা যায়। শরীর না কেটেই ভেতরের গঠন দেখার এই সম্ভাবনা দ্রুত চিকিৎসকদের আগ্রহ তৈরি করে। ১৮৯৬ সাল থেকেই চিকিৎসায় এক্স-রের ব্যবহার শুরু হয়। ভাঙা হাড় শনাক্ত করা, শরীরে ঢুকে থাকা গুলি বা অন্য বস্তু খুঁজে বের করা এবং বিভিন্ন রোগের পরীক্ষা—সব ক্ষেত্রেই এটি নতুন সুযোগ তৈরি করে। আবিষ্কারের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯০১ সালে রন্টগেন পদার্থবিজ্ঞানে প্রথম নোবেল পুরস্কার পান।

তবে প্রযুক্তিটি এক জায়গায় থেমে থাকেনি। প্রথম দিকে ছবি তোলা হতো কাচের প্লেটে। পরে এক্স-রে ফিল্ম, উন্নত যন্ত্র এবং ডিজিটাল ডিটেক্টর ছবিকে আরও স্পষ্ট ও সহজলভ্য করেছে। ১৯৭০-এর দশকে কম্পিউটার টমোগ্রাফি বা সিটি স্ক্যান চিকিৎসায় নতুন অধ্যায় খুলে দেয়। একাধিক এক্স-রে ছবি কম্পিউটারের সাহায্যে বিশ্লেষণ করে শরীরের ভেতরের অংশের স্তরভিত্তিক ছবি তৈরি করা সম্ভব হয়। ম্যামোগ্রাফি ও ফ্লুরোস্কোপিও নির্দিষ্ট রোগ ও চিকিৎসা পদ্ধতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

আজ দুর্ঘটনায় হাড়ের আঘাত, বুকের নানা সমস্যা, দাঁতের অবস্থা কিংবা কিছু রোগের লক্ষণ শনাক্তে এক্স-রে প্রযুক্তি নিয়মিত কাজে লাগে। তবে সব রোগ এক্স-রেতে ধরা পড়ে না। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, এমআরআই বা আল্ট্রাসাউন্ড বেছে নেন। কারণ এমআরআই ও আল্ট্রাসাউন্ড এক্স-রে ব্যবহার করে।

এক্স-রে ও সিটি স্ক্যানে আয়নকারী বিকিরণ থাকে। তাই অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা উচিত নয়; চিকিৎসকের পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা মেনে পরীক্ষা করাই নিরাপদ। এক্স-রের আবিষ্কার চিকিৎসাকে দিয়েছে শরীরের ভেতর দেখার নতুন জানালা। সেই জানালা আজও প্রতিদিন অসংখ্য রোগীকে সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। এখানে যন্ত্র পরিচালনা, রোগীর সঠিক অবস্থান এবং ছবির মান নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি