আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ায় বিশ্ববাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম। সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও সৌদি আরবে ড্রোন হামলার ঘটনায় অঞ্চলজুড়ে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে চীন সফরে গিয়ে ইরান ইস্যুতে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তেলের সরবরাহ সংকট নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
সোমবার (১৮ মে) এশিয়ার শুরুর লেনদেনে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৮ দশমিক ২০ ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের দিনের তুলনায় ২ দশমিক ৫৯ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে হয়েছে ১১১ দশমিক ৫০ ডলার, যা আগের দিনের তুলনায় ২ দশমিক ৩ শতাংশের বেশি।
সাম্প্রতিক হামলাগুলোর মধ্যে ইউএইর বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বিশেষভাবে উদ্বেগ তৈরি করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই এলাকায় একটি ড্রোন হামলার ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার বাইরে আগুন লাগে। তবে এতে কোনো তেজস্ক্রিয়তা ছড়ায়নি এবং হতাহতের ঘটনাও ঘটেনি। একই সময়ে সৌদি আরব জানিয়েছে, ইরাক সীমান্ত দিক থেকে আসা তিনটি ড্রোন তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করলে সেগুলো ভূপাতিত করা হয়েছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ ঘোষণার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোতে ধারাবাহিক হামলা বেড়েছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে আবারও স্বাভাবিক বাণিজ্য চলাচল নিশ্চিত করা।
গত সপ্তাহে ট্রাম্পের চীন সফর ঘিরে আশা ছিল, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ইরানের ওপর প্রভাব খাটিয়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে ভূমিকা রাখতে পারেন। তবে সফরে কোনো সমঝোতা না হওয়ায় বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা আরও তীব্র হয়েছে। এরই মধ্যে ট্রাম্প আবারও ইরানকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়ছে। সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ইতিমধ্যে প্রায় ৮০টি দেশ জরুরি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিয়েছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৮০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অ্যাবারডিনের অর্থনীতিবিদেরা।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত বিশ্ববাজারে দৈনিক প্রায় ৬০ লাখ ব্যারেল তেলের ঘাটতি তৈরি হতে পারে।
এই ঘাটতির কারণে বিভিন্ন দেশ ও বড় ব্যবসায়ীরা দ্রুতগতিতে মজুত তেল ব্যবহার করছে। বৈশ্বিক মজুত কমে যাওয়ার পাশাপাশি সমুদ্রভিত্তিক ভাসমান সংরক্ষণ ব্যবস্থাও প্রায় পূর্ণ হয়ে গেছে।
মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক জেপিমরগ্যান সতর্ক করে বলেছে, জুনের শুরুতেই ওইসিডিভুক্ত দেশগুলোর তেল মজুত ‘অপারেশনাল স্ট্রেস’ পর্যায়ে পৌঁছে যেতে পারে। এতে বাজারে আরও বড় মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকট দেখা দেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
এদিকে ইরানকে ঘিরে যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টা ও তেলের বাজার দুই ক্ষেত্রেই সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে ট্রাম্পের। নতুন কোনো সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
—জা. অর্থনীতি/এআইই
