ইরানে হামলা স্থগিতের ঘোষণা ট্রাম্পের, বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য উত্তেজনা প্রশমনের সংকেত পাওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন দেখা গেছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফেরায় মঙ্গলবার (১৯ মে) লেনদেনের শুরুতেই আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমেছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জুলাইয়ে সরবরাহের জন্য ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম ৩ দশমিক ০১ ডলার বা ২ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ১০৯ দশমিক ০৯ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৩৮ ডলার বা ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১০৭ দশমিক ২৮ ডলারে। 

এছাড়া জুলাইয়ের অন্য এক ফিউচারস চুক্তিতে তেলের দাম ২ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি প্রায় ১০২ দশমিক ৩২ ডলারে লেনদেন হতে দেখা গেছে।

মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর পরিকল্পিত সামরিক হামলা স্থগিত করে আলোচনার জন্য আরও সময় দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর বাজারের এই নিম্নমুখী প্রবণতা শুরু হয়। সোমবার এক বিবৃতিতে ট্রাম্প জানান, তেহরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ‘খুব ভালো সুযোগ’ রয়েছে।

এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় গত সেশনে জ্বালানি তেলের দাম কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। কূটনৈতিক তৎপরতার নতুন এই আভাসে দাম কিছুটা কমলেও ব্যবসায়ীরা এখনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। তাদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় বিদ্যমান অস্থিরতা জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে বড় ধরনের হুমকি হয়েই রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তেলের সরবরাহ নিয়ে দুশ্চিন্তা পুরোপুরি কাটছে না। কারণ বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ যাতায়াত করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথটি বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েছে, যা বিশ্ব বাজারে উদ্বেগের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

—জা. অর্থনীতি/এআইই