২০২৭ সালের হজ ব্যবস্থাপনায় সৌদি আরবের ৫টি বড় পরিবর্তন
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র হজের ঐতিহাসিক সফরকে আরও সহজ, নিরাপদ এবং ভোগান্তিমুক্ত করতে এবার নজিরবিহীন একগুচ্ছ সংস্কার নিয়ে আসছে সৌদি আরব। আগামী ২০২৭ সালের (১৪৪৮ হিজরি) হজ মৌসুমকে সামনে রেখে এরই মধ্যে মক্কায় এক জরুরি বৈঠকে নতুন এক মাস্টারপ্ল্যান ঘোষণা করেছেন দেশটির হজ ও ওমরাহবিষয়ক মন্ত্রী তৌফিক আল রাবিয়াহ। পুরোনো অনেক নিয়ম ভেঙে এবার যুক্ত হচ্ছে সম্পূর্ণ নতুন প্রযুক্তি এবং নতুন সেবা মডেল। আপনি বা আপনার পরিবারের কেউ যদি আগামী বছর হজে যাওয়ার পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে সৌদি সরকারের এই ৫টি বড় পরিবর্তন এখনই আপনার জেনে নেওয়া উচিত!

এত দিন হজযাত্রীদের আবাসন, যাতায়াত আর খাবারের জন্য আলাদা আলাদা ঝুক্কি পোহাতে হতো। ২০২৭ সাল থেকে চালু হচ্ছে ‘ইউনিফাইড বা সমন্বিত সেবা প্যাকেজ’। এর আওতায় মক্কা-মদিনার হোটেল বুকিংয়ের সাথেই বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত থাকবে পরিবহন ও খাবার সুবিধা, যা হজযাত্রীদের ভোগান্তি শূন্যে নামিয়ে আনবে।

বন্ধ হচ্ছে ‘প্যাকেজ ডি’, ক্যাটাগরি মাত্র তিনটি: হজ প্যাকেজগুলোর জটিলতা কমাতে পুরো ব্যবস্থাকে নতুন করে সাজানো হয়েছে। বিদ্যমান অফারগুলো কমিয়ে মাত্র ৩টি শ্রেণিতে নামিয়ে আনা হচ্ছে। আর এর অংশ হিসেবে বর্তমানের তুলনামূলক নিম্নমানের ‘প্যাকেজ ডি’ চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।

হজের মতো বিশাল সমাগম যেন নিখুঁতভাবে পরিচালনা করা যায়, সেজন্য প্রতিটি দেশের হজ কার্যালয়ের কর্মীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই ট্রেনিং শেষ না করলে কোনো সংস্থাকে হজের প্রয়োজনীয় ভিসা ও অনুমতিপত্র (পারমিট) দেওয়া হবে না।

বছর বাকি থাকতেই শুরু হচ্ছে আগাম বুকিং: ২০২৭ সালের হজের জন্য চলতি বছরের ৩০ জুন থেকেই মক্কা ও মদিনায় আবাসন বুকিংয়ের উইন্ডো খুলে দেওয়া হচ্ছে, যা চলবে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত।

যে সব এজেন্সি বা সংস্থা পবিত্র স্থানগুলোতে (মিনা ও আরাফাত) তাদের আগের লোকেশন বা জায়গা ধরে রাখতে চায়, নতুন সমন্বিত সেবা প্যাকেজে চুক্তি করার সময় তাদের বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

সৌদি আরবের মেগা প্রজেক্টের অংশ হিসেবেই বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ আল্লাহর মেহমানদের অভিজ্ঞতাকে আরও আরামদায়ক ও আধুনিক করতে এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ। নতুন এই নিয়মের ফলে আগামী বছরের হজ ব্যবস্থাপনা আরও অনেক বেশি সুশৃঙ্খল হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

জা. অর্থনীতি/ উমার