২০২৬-২৭ বাজেট:  বাড়তে পারে যেসব পণ্যের দাম
ছবি: সংগৃহীত

অর্থনীতি ডেস্ক: আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে বিলাসী পণ্য, কিছু আমদানি পণ্য, রড ও তামাকজাত পণ্যের ওপর কর বাড়ানো প্রস্তাব আসতে পারে। ফলে নতুন অর্থবছরে বাজারে কিছু পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। 

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, সরকারের নতুন করনীতির মূল লক্ষ্য হলো দেশে উৎপাদিত পণ্যের ব্যবহার বাড়ানো, স্থানীয় শিল্পকে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিরুৎসাহিত করা। এই কারণে কয়েকটি পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক, ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আরোপ বা বিদ্যমান করহার বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।  

সিগারেট ও নিকোটিনজাত পণ্য
সিগারেটের ফিল্টার তৈরির কাঁচামালের ওপর ৩০০ শতাংশ এবং নিকোটিনের ওপর ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। এ ছাড়া সিগারেটের প্যাকেটে কিউআর কোড সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হতে পারে। উচ্চ স্তরের ১০ শলাকার সিগারেটের প্যাকেটের দাম ১৮৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২১০ টাকা করা হতে পারে। একই সঙ্গে নিকোটিন পাউচের ওপর ৪০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।

কাজু বাদামে বাড়তি শুল্ক 
দেশে বাণিজ্যিকভাবে কাজু বাদামের চাষ সম্প্রসারিত হওয়ায় স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সুরক্ষা দিতে আমদানি করা কাজু বাদামের ওপর শুল্ক পাঁচ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। ফলে বিদেশ থেকে আমদানি করা কাজু বাদামের দাম বাজারে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে উৎপাদিত কাজুবাদামের বাজার তৈরি করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। 

দাম বাড়বে আমদানি করা মাছের 
দেশীয় মৎস্য খাতকে সুরক্ষা দিতে বিদেশ থেকে আমদানি করা কিছু মাছের ওপর কর বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পাঙাস মাছের ফিলেট আমদানিতে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে উচ্চমূল্যের হিমায়িত মাছ আমদানির ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হতে পারে। 

এর ফলে আমদানি করা সামুদ্রিক ও প্রিমিয়াম শ্রেণির মাছের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

বিদেশি মদের দাম আরও বাড়তে পারে 
বিদেশি মদের ওপর আগে থেকেই উচ্চহারে শুল্ক-কর রয়েছে। নতুন বাজেটে এই খাতে করের চাপ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।  

একই সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানির উৎপাদিত মদের ওপরও প্রতি লিটারে নির্দিষ্ট হারে ভ্যাট আরোপের চিন্তা করছে সরকার। ফলে দেশি-বিদেশি উভয় ধরনের মদের দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

নির্মাণ খাতে বাড়তে পারে ব্যয় 
নির্মাণ খাতের অন্যতম প্রধান উপকরণ এমএস রডের ওপর কর ও ভ্যাট বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। উৎপাদন পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট কর এবং ভ্যাট মিলিয়ে প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত কর আরোপ হতে পারে।  

শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে রডের দাম বাড়বে এবং এর প্রভাব আবাসন, অবকাঠামো ও নির্মাণ খাতের ব্যয়ের ওপর পড়তে পারে। 

বিদেশি প্রসাধনী হবে আরও ব্যয়বহুল 
দেশীয় প্রসাধনী শিল্পকে সুরক্ষা দিতে বিদেশি ব্র্যান্ডের প্রসাধনী ও বিলাসী সৌন্দর্যপণ্যের ওপর করের চাপ বাড়ানো হচ্ছে। আমদানি পর্যায়ে অতিরিক্ত ভ্যাট আরোপের কারণে বিদেশি প্রসাধনীর দাম বাড়তে পারে। 

বিশেষ করে উচ্চমূল্যের স্কিনকেয়ার, কসমেটিকস ও বিউটি পণ্যের বাজারে এর প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। 

বিলাসী খাদ্যপণ্যেও বাড়তি খরচ 
আমদানিনির্ভর বিভিন্ন উচ্চমূল্যের খাদ্যপণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং প্রিমিয়াম ভোগ্যপণ্যের ওপরও অতিরিক্ত কর আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে এসব পণ্য কিনতে ভোক্তাদের আগের তুলনায় বেশি অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে। 

নতুন বাজেট কার্যকর হলে বাজারে দুই ধরনের চিত্র দেখা যেতে পারে। দেশীয়ভাবে উৎপাদিত অনেক পণ্যের দাম কমতে পারে, আবার আমদানিনির্ভর ও বিলাসী পণ্যের দাম বাড়তে পারে। 

—জা. অর্থনীতি/এএইচএ