বিনোদন ডেস্ক: টিভি নাটকের এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা। বর্তমানে অভিনয়ে নিয়মিত না হলেও সামাজিকমাধ্যমে বেশ সক্রিয়। দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্রমাগত ট্রল ও সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়ে আসছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী। এতোদিন এই বিষয়ে চুপ থাকলেও এবার নিজের ভেতরের জমে থাকা ক্ষোভ ও কিছু ‘জ্বালাময়ী’ সত্যি নিয়ে হাজির হয়েছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করা এক ভিডিও বার্তায় তিনি বুলিংকারীদের মনস্তত্ত্ব এবং সমাজে ভিকটিম ব্লেমিংয়ের সংস্কৃতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন।
ওই ভিডিও বার্তায় অভিনেত্রী জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বেশকিছু ইস্যু নিয়ে দীর্ঘদিন ভেতরে জমে থাকা ক্ষোভ আর কিছু ‘জ্বালাময়ী’ সত্যি নিয়ে হাজির হয়েছেন তিনি।
প্রায় ৮ মিনিটের ভিডিওর শুরুতেই প্রভা বলেন, ‘আমি অনেকদিন সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া ব্যাপার নিয়ে কথা বলি না। ভেবেছিলাম কথা বলেও তো আসলে কোনো লাভ নাই। কিন্তু নিজের দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে মনে হয় যে কিছু জিনিস চোখ বন্ধ করে থাকা যায় না।’
এরপর তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় করা আক্রমণ বা ট্রল প্রসঙ্গ তোলেন। প্রভা জানান, হিউম্যান সাইকোলজি ও সাইকিয়াট্রিস্টদের গবেষণার সূত্র অনুযায়ী, যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় কাউকে ট্রল বা বুলিং করেন তারা আসলে নিজেদের নিয়ে স্যাটিসফাইড না থাকায় দুঃখী। নিজেদের ইনসিকিউর আর অক্ষমতা থেকে বুলিংকারীরা এমন হীন কাজ করেন।
অভিনেত্রী আরও বলেন, ‘আপনারা আপনাদের নিজের যোগ্যতা, নিজের স্থান, নিজের সৌন্দর্য, নিজের কোয়ালিফিকেশন এই সবকিছুর প্রতি ইনসিকিউরিটি থাকার জন্যই তো মানুষকে মক করেন। যারা মানুষের ব্যাপারে এতো অ্যাগ্রেসিভলি জাজ করে, বুলিং করে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ভার্বালি অ্যাবিউজ করে, এরা আসলে নিজেদেরকে নিয়ে স্যাটিসফাইড না হওয়ায় দুঃখী। অন্যদের সাফল্যের ব্যাপারটা তারা মানতে পারেন না।’
এরপর অপরাধীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে আমি বুলিংয়ের শিকার হচ্ছি। আমি বুঝতে পারি এটাতে আপনাদের পৈশাচিক আনন্দ হয়। কিন্তু আমার কথা হলো- আমাকে শতভাগ বুলিং না করে সমাজে ঘটে যাওয়া অভিযুক্তদেরও ৫০ ভাগ বুলিং করেন। সমাজের অপরাধীদের যদি বুলিং করে প্রকাশ্যে আনতেন, তাদের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতেন তাহলে পৃথিবীতে তন্ময়ের জন্ম হতো না।’
এ সময় আফসোস করে অভিনেত্রী বলেন, ‘৩৫ বছরের একটা ছেলে যখন ক্রাইম করে তখন তাকে সংবাদমাধ্যমে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে আনা হয় না। ভিকটিমকে নিয়ে বেশি কথা বলতে শুরু করি। আসলে আমরা অপরাধীদের প্রকাশ্যে বুলিং, কটাক্ষ করছি না বলেই সমাজে পারভার্শন (বিকৃত যৌন আচরণ) বাড়ছে।’
এরপর প্রভা বলেন, ‘বাংলাদেশে যখন তন্ময় ঢুকবে, তার কিছু হবে না। তার বিয়ে হবে, তন্ময়ের বিয়ের বউ থাকলে সেও ওর জন্য ফাইট করবে, তন্ময়ের মা বলবে আমার বাচ্চা এমন না। দীর্ঘ সময় ধরে আমরা এখানেই থেমে আছি। আর তন্ময়ের মতো অপরাধী সমাজে তৈরি হচ্ছে তার বিরুদ্ধে কথা না বলে আমরা অনবরত ভিকটিমকে নিয়ে কথা বলছি। যদি আমরা জেগে উঠি তাহলে এই তন্ময়ের জন্ম হয় না যারা আরেকটা দেশে গিয়ে জানান দেয় বাংলাদেশী হিসেবে কতোটা বিকৃত মানসিকতার ব্যক্তি আমরা।’
—জা. অর্থনীতি/এনএ
