নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০১১ সালে হাতেগোনা কয়েকটি সেবা নিয়ে যাত্রা শুরু করে 'বিকাশ'। দেড় দশকের পথচলায় এখন বিকাশ প্ল্যাটফর্মেই ২০০টিরও বেশি সেবা নিতে পারেন গ্রাহক। নিরবচ্ছিন্ন প্রযুক্তিগত বিনিয়োগ, শক্তিশালী সেবা অবকাঠামো তৈরি এবং নিত্যনতুন উদ্ভাবনী পণ্য নিয়ে আসার মধ্য দিয়ে পূর্ণাঙ্গ আর্থিক সেবা নিশ্চিত করছে বিকাশ। একই সঙ্গে, এটি দেশের সব ধরনের মানুষের দৈনন্দিন লেনদেনের অভ্যাসেও নিয়ে এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন।
ডিজিটাল ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিকাশ এর দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত বিনিয়োগ আর্থিক লেনদেনকে মানুষের হাতের মুঠোয় এনেছে। আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা রেখেছে বিকাশ এর সার্বজনীন প্রযুক্তিগত সেবা।
প্রতিনিয়ত নতুন সেবা চালু করে গ্রাহকদের প্রতিদিনকার লেনদেনের পাশাপাশি সার্বিক ব্যবসায়িক লেনদেনকেও আরও সহজ ও সক্ষম করেছে বিকাশ। প্রায় ১০ লাখ মার্চেন্ট পয়েন্টে পেমেন্টের পাশাপাশি বিকাশের ৮ কোটি ৩০ লাখেরও বেশি গ্রাহক ক্রমাগত ক্যাশবিহীন দৈনন্দিন নানা লেনদেনে অভ্যস্ত হয়ে উঠছেন।
শুরু থেকেই বিকাশের বিনিয়োগকারীরা 'পেশেন্ট ক্যাপিটাল' বা 'দীর্ঘমেয়াদি পুঁজি'-র নীতি অনুসরণ করেছেন। তারা লভ্যাংশ না নিয়ে মুনাফার পুরো অর্থ আবার ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন। তাৎক্ষণিক মুনাফার চেয়ে ডিজিটাল আর্থিক সেবা খাতের উন্নয়ন এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে বিনিয়োগকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। ফলে আর্থিক লেনদেনে সেবাগুলোতে বৈচিত্র্যময় সুবিধাযুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
আর্থিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গী বিকাশ
একটা সময় কেবল টাকা পাঠানোর সুবিধা ছিল বিকাশ সেন্ডমানিতে। এখন 'অটো-পে' ব্যবহার করে মাসের নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট মানুষের কাছে টাকা পাঠাতে পারেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে, ফলে প্রতিবার ম্যানুয়ালি টাকা পাঠানোর প্রয়োজন হয় না। এদিকে বিদ্যুৎ বিলে অটো-পে চালু রাখলে গ্রাহকরা নির্দিষ্ট তারিখের আগে রি-মাইন্ডার পান। একই সঙ্গে, অ্যাপের 'আমার বিকাশ' অপশন থেকে গত ছয় মাস বা এক বছরে গ্রাহক কোন সেবায় কত টাকা খরচ করেছেন, তা খুব সহজেই 'গ্রাফিক্যাল উপস্থাপনা'র
মাধ্যমে দেখে নিতে পারেন। এই ধরনের ফিচারগুলো গ্রাহকদের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় আরও সক্ষমতা আনতে সহায়ক হচ্ছে। পাশাপাশি, বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিকাশ দেশে ডিজিটাল লেনদেনের একটি শক্তিশালী ইকোসিস্টেম তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে।
এদিকে রেমিট্যান্স প্রবাহকেও আরো সহজ করতে কাজ করে যাচ্ছে বিকাশ। পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকেই প্রবাসীরা সরাসরি প্রিয়জনদের বিকাশ অ্যাকাউন্টে নিমেষেই কষ্টার্জিত রেমিট্যান্স পাঠাতে পারেন। আবার গ্রাহকরা আয়কর দেওয়ার প্রয়োজনে বিকাশ অ্যাপ থেকে রেমিট্যান্স স্টেটমেন্টও ডাউনলোড করে নিতে পারছেন। বর্তমানে ১৭০টি দেশ থেকে প্রায় ১৪০টি মানি ট্রান্সফার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সরাসরি বিকাশ অ্যাকাউন্টে রেমিট্যান্স পাঠানো যাচ্ছে।
বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৮০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বেতন এবং ২ হাজার ৪০০টির বেশি বিলারের বিভিন্ন সেবার বিল দেওয়া যাচ্ছে। এছাড়া প্রায় ১০ লাখ পোশাকশ্রমিকের বেতন এখন বিকাশের মাধ্যমে দেওয়া হয়।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বিকাশ সেভিংস ও লোন সেবা চালু করেছে, যা বিশেষ করে প্রান্তিক গ্রাহকের জন্য ব্যাংকিংসেবাকে হাতের মুঠোয় এনেছে।
বিকাশ গ্রাহকরা এখন পাঁচটি ব্যাংক ও একটি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে মাসে সর্বনিম্ন ২৫০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত সঞ্চয় করতে পারছেন বিকাশ অ্যাপ থেকেই।
বিকাশ অ্যাপে যুক্ত হয়েছে গ্রাহকবান্ধব ফিচার, 'মাই বিকাশ (আমার বিকাশ)' ফিচারটি ব্যবহারকারীর লেনদেনের আচরণের ওপর ভিত্তি করে অ্যাপ ইন্টারফেসকে পারসোনালাইজড রূপ দেয়। প্রতিটি ব্যবহারকারীর অ্যাপ ইন্টারফেস তার ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে সাজানো, যেখানে তাদের নিয়মিত লেনদেন করা ব্যক্তি, পছন্দের এজেন্ট, সেভিংস, লোন, পে-বিল, পেমেন্টসহ প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো সামনে থাকে।
গ্রামের প্রান্তিক গ্রাহক থেকে শহরের প্রযুক্তি সুবিধায় থাকা গ্রাহক সবার জন্য আর্থিক লেনদেনকে সার্বজনীন করে প্রতিদিনের লেনদেনের সঙ্গী হয়ে উঠেছে বিকাশ।