ধ্বংসস্তূপ থেকে শিশুকে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ভয়াবহ ভূমিকম্পের দীর্ঘ ছয় দিন, প্রায় ১৪৪ ঘণ্টা পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তিন বছরের এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। জর্ডানের একটি উদ্ধারকারী দল শিশুটিকে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এই ঘটনাকে চরম বিপর্যয়ের মাঝে এক টুকরো আশার আলো হিসেবে দেখছেন উদ্ধারকর্মী ও দেশটির সাধারণ মানুষ।

টুইটার ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুটিকে ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে আনার পর উদ্ধারকর্মীরা আনন্দে ফেটে পড়েন। ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি শিশুটির নাম ক্লিবার মোরান বলে নিশ্চিত করেছেন।

ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা রাজ্য থেকে ক্লিবারকে উদ্ধার করা হয়। জর্ডানের সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, উদ্ধারের পরপরই শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাজধানী কারাকাসের একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।

ভেনেজুয়েলার অ্যাসেম্বলি প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ বলেন, ক্লিবারের এই উদ্ধার প্রমাণ করে যে এখনও অলৌকিক কিছু ঘটার আশা বাকি আছে। দেশি ও আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রাণের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এই উদ্ধারকে আশার এক পরম মুহূর্ত বলে বর্ণনা করেছেন।

সাধারণত ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টাকে জীবিত উদ্ধারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বা গোল্ডেন আওয়ার ধরা হয়। সেই সময় পার হওয়ারও তিন দিন পর শিশুটির বেঁচে থাকার ঘটনা সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।

গত সপ্তাহে ভেনেজুয়েলায় পরপর ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৯৪৩ জনে। আহত হয়েছেন ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ এবং এখনও নিখোঁজ রয়েছেন হাজার হাজার বাসিন্দা। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার স্যাটেলাইট তথ্য বিশ্লেষণ করে জানানো হয়েছে, এই ভূমিকম্পে প্রায় ৫৮,৮৭০টি ভবন সম্পূর্ণ বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

জা.অর্থনীতি/এসআই