ম্যানার শেখানোর নামে জাবিতে গভীর রাতে কী হয়?
ছবি সংগৃহীত

জাবি প্রতিনিধি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইতিহাস বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের ‘ম্যানার’ শেখানোর অজুহাতে গভীর রাতে র‍্যাগিং করার অভিযোগে ওই বিভাগেরই ৫৪তম ব্যাচের ১২ জন সিনিয়র শিক্ষার্থীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রক্টোরিয়াল টিমের কাছে ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগের পর অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরাও র‍্যাগিংয়ের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

শুক্রবার (৩ জুলাই) দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এ ঘটনা ঘটে। আটক অভিযুক্তরা হলেন—সুভাশীষ রায়, নাছিম উদ্দিন মজুমদার, আবু আবতাহী অনিক, নাইমুল হাসান, আব্দুল্লাহ মাহদী, ইসফাক হাদী সিক্ত, মো. রায়হান খান, কাজী শাহ জামসেদ আলম নাবিল, সাইফুল্লাহ মানসুর আনান, মো. মাহফুজুর রহমান অন্ত, শ্রী কার্তিক চন্দ্র রায় ও নাইম আহমেদ সজিব।

ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাত ১১টার দিকে ৫৫তম ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে প্রথমে মহুয়া মঞ্চ এবং পরে স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ‘ফরমাল পরিচয়’ নেওয়ার কথা বলে নবীন শিক্ষার্থীদের বাবা-মাকে নিয়ে অশালীন ভাষায় গালাগাল, কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখা এবং মানসিক ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. এহসানুল হক ও রাজ খান জানান, এটি প্রথম ঘটনা নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময় ‘ম্যানার’ শেখানোর নামে সেন্ট্রাল ফিল্ডে গভীর রাত পর্যন্ত তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। পরবর্তীতে জাকসু নেতা ও প্রক্টোরিয়াল টিম গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।

জাকসুর স্বাস্থ্য ও খাদ্যবিষয়ক সম্পাদক এবং অ্যান্টি-র‍্যাগিং সেলের সদস্য হুসনে মোবারক বলেন, রাত দুইটার দিকে খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান এবং অভিযোগের সত্যতা পেয়ে প্রশাসনকে জানান। পরে সহকারী প্রক্টর ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এসে অভিযুক্তদের নিরাপত্তা অফিসে নিয়ে যান। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা অফিসে এনে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি প্রক্টোরিয়াল বডির সভায় উপস্থাপন করা হবে এবং সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেবে।