বস্তাবন্দি পড়ে আছে ২০ হাজার স্বাস্থ্য কার্ড
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের গাফিলতিতে সরকারের লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে তৈরি প্রায় ২০ হাজার স্বাস্থ্য কার্ড ৭ বছর ধরে উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছায়নি। কার্ডগুলো বছরের পর বছর স্টোররুমে বস্তাবন্দি করে রাখা হয়েছিল। মঙ্গলবার রাতে অফিসের বারান্দায় একটি বস্তা ফেলে রাখা অবস্থায় তা জনসম্মুখে আসে। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সীমা সিদ্দিকা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

বুধবার (৮ জুলাই) রাতে হাসপাতালে আগত রোগীদের স্বজনরা তালাবদ্ধ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের বারান্দায় একটি ভরা বস্তা ফেলে থাকতে দেখেন। এগিয়ে গিয়ে তারা দেখেন, ভিন্ন ভিন্ন নারী-পুরুষের নাম-ঠিকানা লেখা লেমিনেটেড স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্ডে ভর্তি বস্তাটি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বস্তাটিতে অন্তত ২০ হাজার কার্ড রয়েছে, যেগুলোর প্রদানের তারিখে ২০১৩ ও ২০১৯ সাল উল্লেখ আছে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের বিভিন্ন পদ্ধতি গ্রহণকারী নারী ও পুরুষের সরকারি ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে অধিদপ্তর এসব কার্ড তৈরি করে উপজেলা অফিসে পাঠায়। মাঠকর্মীদের মাধ্যমে এগুলো বিতরণের কথা থাকলেও তা না করায় সরকারের মূল উদ্দেশ্য ভেস্তে গেছে এবং উপকারভোগীরা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সীমা সিদ্দিকা জানান, তিনি ২০২৪ সালে এখানে যোগদান করার পরই স্টোরে এই কার্ডগুলো দেখতে পান। খোঁজ নিয়ে জেনেছেন, কার্ডগুলো ত্রুটিপূর্ণ থাকায় তখন বিতরণ করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, “আসন্ন বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালনের প্রস্তুতিকালে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের সময় কার্ডগুলো বারান্দায় সাময়িক রাখা হয়েছিল, রাতেই তা আবার স্টোররুমে সংরক্ষণ করা হয়েছে।”

এদিকে দায়িত্ব অবহেলা ও সরকারি সম্পদের অপচয়ের এই ঘটনায় বিভিন্ন মহলে চরম ক্ষোভ ও সমালোচনা চলছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি