বৈদেশিক ঋণের তথ্য মাসে মাসে চাইল বাংলাদেশ ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক: বেসরকারি খাতের মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক ঋণের তথ্য এখন থেকে ত্রৈমাসিকের পরিবর্তে প্রতি মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে। দেশের বৈদেশিক ঋণের পরিস্থিতি আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ, ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা মূল্যায়ন এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণের লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার লেটার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, এত দিন বেসরকারি খাতের মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক ঋণের তথ্য ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে যৌক্তিকীকৃত তথ্য ছক (র্যাশনালাইজড ইনপুট টেমপ্লেট) পূরণ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের ইলেকট্রনিক রিটার্নস পোর্টালে জমা দিতে হতো। পাশাপাশি বৈদেশিক ঋণ ঘোষণাপত্র (ইডি-১ ও ইডি-২) ফরমের হার্ডকপি এবং ঋণচুক্তি-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় দলিলও দাখিল করতে হতো।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, জুলাই ২০২৬ মাসের তথ্য থেকে এসব প্রতিবেদন মাসিক ভিত্তিতে জমা দিতে হবে। প্রতি মাসের তথ্য পরবর্তী মাসের ১৫ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ইলেকট্রনিক রিটার্নস পোর্টালে আপলোড করতে হবে। একই সময়ের মধ্যে ইডি-১ ও ইডি-২ ফরমের হার্ডকপি এবং সংশ্লিষ্ট ঋণচুক্তির দলিলও পরিসংখ্যান বিভাগে জমা দিতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা মূল্যায়ন, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, কার্যকর অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়ন, বৈদেশিক ঋণের নিবিড় তদারকি, পরিশোধের ভারসাম্য এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ অবস্থান–সংক্রান্ত পরিসংখ্যান প্রণয়ন ও আর্থিক খাতের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য এ পরিবর্তন আনা হয়েছে।

তবে এ-সংক্রান্ত আগের সার্কুলারগুলোর অন্যান্য নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ (২০২৩ পর্যন্ত সংশোধিত)-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।