বৈদেশিক ঋণে বড় পতন, বাড়ছে পরিশোধের চাপ!
ছবি: প্রতীকী

সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে  পাওয়া বিদেশি ঋণের প্রতিশ্রুতি ১৪ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অর্থবছরে বাংলাদেশ মাত্র ৫২৪ কোটি ৩৩ লাখ ডলার বৈদেশিক ঋণের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে।

ইআরডির গত রবিবারের  হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণের অর্থছাড় কমে ৮০৭ কোটি ডলারে নেমেছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৪৯ কোটি ডলার কম। একই সময়ে ঋণ প্রতিশ্রুতি ৮৩২ কোটি ডলার থেকে কমে ৫২৪ কোটি ডলারে নেমেছে, অর্থাৎ কমেছে ৩০৮ কোটি ডলার (প্রায় ৩৭ শতাংশ)। অন্যদিকে ঋণ পরিশোধ বেড়ে ৪৪৯ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। 

এদিকে গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬৭ দশমিক ৫২ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে সংশোধিত এডিপির আকার ছিল ২ লাখ ৮ হাজার ৯৩৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। অথচ অর্থবছর শেষে মোট ব্যয় হয়েছে মাত্র ১ লাখ ৪১ হাজার ৭১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ফলে বরাদ্দের বড় একটি অংশ অব্যবহৃত থেকে গেছে।

আরও পড়ুন...
হঠাৎ ডলারের দাম বাড়ার নেপথ্য কী?
পে স্কেল কার্যকর হলে বকেয়া বেতন কীভাবে পাবেন?

সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের হার গত দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমেছে। ২০০৪-০৫ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের কোনো সময়ই বাস্তবায়ন হার ৮০ শতাংশের নিচে নামেনি। ফলে এটি দেশের উন্নয়ন ইতিহাসে নতুন এক নেতিবাচক রেকর্ড।

গত অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণ ছাড়ে শীর্ষে ছিল বিশ্বব্যাংক ২০৭ কোটি ডলার, এরপর এডিবি ১৯১ কোটি, রাশিয়া ১০৪ কোটি, জাপান ৭৯ কোটি, এআইআইবি ৬৯ কোটি, চীন ৫৩ কোটি ও ভারত ২৭ কোটি। তবে নতুন ঋণ প্রতিশ্রুতিতে শুধু এডিবির পরিমাণ বেড়েছে ২৬৮ কোটি ডলারে।  এছাড়া আইডিএ ৮২ কোটি ,এআইআইবি ২৫ কোটি , জাপান ৩১ কোটি  , চীন ২৭ কোটি , ভারত ও রাশিয়া ০, অন্যান্য ৮৯ কোটি । 

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের মতে, আগামী দুই-তিন বছরে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ বছরে ৫–৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, রাজস্ব আদায় ও বৈদেশিক মুদ্রার জোগান না বাড়লে ঋণ পরিশোধের চাপ অর্থনীতিতে সংকট তৈরি করতে পারে। তাই ঋণের অর্থ উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার করে সময়মতো এর সুফল নিশ্চিত করতে হবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন বৈদেশিক ঋণ কমে যাওয়া এবং ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবস্থাপনায় আরও সতর্ক হতে হবে। একই সঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থছাড়ের গতি না বাড়লে প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

আপনি কি মনে করেন ? বৈদেশিক ঋণের এই পরিবর্তিত চিত্র কি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য সাময়িক সংকেত, নাকি দীর্ঘমেয়াদি উদ্বেগের বার্তা? আপনার মতামত কমেন্ট জানান।