অনলাইন ডেস্ক: অফিসের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন কিংবা কোনো সরকারি হাসপাতালে গেছেন কাজে। হঠাৎ চোখে পড়ল সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে থাকা গাছে ঝুলছে টসটসে পাকা আম, পেয়ারা কিংবা নজরকাড়া কোনো ফুল। মন বলে উঠল, সরকারি গাছ তো, সবারই তো অধিকার আছে। একটা পেড়ে নিলে কী আর এমন হবে! এই ভাবনা থেকে অনেকেই হয়তো আড়ালে ফল বা ফুলটা ছিঁড়ে নেন।
কিন্তু কখনো কি গভীরভাবে ভেবে দেখেছেন, একজন সচেতন মুসলিম হিসেবে আপনার এই কাজটি ইসলামি শরিয়তে বৈধ হচ্ছে কি না?
আমাদের সমাজে একটি সাধারণ ভুল ধারণা আছে যে, সরকারি সম্পত্তি মানেই জনগণের সম্পত্তি; আর যেহেতু আমি নিজেও সেই জনগণের একজন, তাই এগুলো ব্যবহারে আমারও অবাধ অধিকার রয়েছে। কিন্তু ইসলামি ফিকহ বা মাসয়ালা এই ধারণাকে মোটেও সমর্থন করে না।
ইসলামি শরিয়তের সুস্পষ্ট মাসয়ালা হলো— যথাযথ কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট অনুমতি ছাড়া সরকারি অফিস, আদালত বা যেকোনো রাষ্ট্রীয় সীমানার ভেতরের গাছ থেকে ফলমূল পেড়ে খাওয়া বা ফুল ছেঁড়া সম্পূর্ণ নাজায়েজ। এটি অন্যের অধিকার বা আমানত নষ্ট করার শামিল, যা থেকে বিরত থাকা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আবশ্যক।
অন্যের সম্পদের ব্যাপারে ইসলাম কতটা সংবেদনশীল, তা পবিত্র কুরআনের দিকে তাকালেই স্পষ্ট হয়। আল্লাহ তায়ালা সূরা বাকারার ১৮৮ নম্বর আয়াতে ইরশাদ করেছেন, তোমরা অন্যায়ভাবে একে অপরের সম্পদ ভোগ করো না এবং জেনেশুনে পাপের মাধ্যমে মানুষের সম্পদের কিছু অংশ আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে তা শাসন কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিও না। এই আয়াত প্রমাণ করে, অধিকারহীন যেকোনো সম্পদ ভোগ করা কুরআনের সরাসরি লঙ্ঘন।
সরকারি অফিসের গাছপালা মূলত রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি বা আমানত। এগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সরকার নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়োগ করে রেখেছে। কারো ব্যক্তিগত গাছের ফল চুরি করলে কেবল ওই ব্যক্তির কাছে ক্ষমা চাইলেই মাফ পাওয়া সম্ভব। কিন্তু রাষ্ট্রীয় বা সরকারি গাছের ফল বিনা অনুমতিতে খাওয়ার অর্থ হলো, দেশের কোটি কোটি মানুষের অধিকার নষ্ট করা। হাশরের ময়দানে রাষ্ট্রের কোটি কোটি মানুষের কাছে দায়বদ্ধ হওয়ার মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি নিশ্চয়ই কেউই চাইবেন না।
এর একটিই মাত্র বৈধ পথ রয়েছে। তা হলো— যদি সংশ্লিষ্ট অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ বা প্রশাসন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বা উন্মুক্তভাবে সবার জন্য তা খাওয়ার অনুমতি দেওয়া থাকে। অনুমতি ছাড়া একটি ফল ছেঁড়াও অন্যের হক আত্মসাতের অন্তর্ভুক্ত।
সামান্য একটু লোভ বা মুহূর্তের অসচেতনতা যেন আমাদের ইবাদত ও হালাল জীবনযাপনকে প্রশ্নবিদ্ধ না করে।