অর্থপাচার তদন্তের পর ট্রাম্পের ৩০০ অ্যাকাউন্ট বন্ধের দাবি

আপনি কি জানেন? যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পারিবারিক ব্যবসার ৩০০টির বেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়েছিল। কিন্তু কেন বন্ধ হয়েছিল? রাজনৈতিক কারণে, নাকি অর্থপাচার বিরোধী পর্যালোচনার ফল? আদালতে নতুন নথি জমা দিয়ে এ নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে ক্যাপিটাল ওয়ান। 

কি বলছে তারা?

চলুন জানার চেষ্টা করি…

ডোনাল্ড ট্রাম্পের পারিবারিক ব্যবসা ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের ৩০০টির বেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধের ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এনেছে ক্যাপিটাল ওয়ান ফাইন্যান্সিয়াল। ব্যাংকটির দাবি, রাজনৈতিক কারণে নয়, বরং অর্থপাচার বিরোধী বা অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং পর্যালোচনার ভিত্তিতেই অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করা হয়েছিল।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আদালতে দাখিল করা নথিতে ক্যাপিটাল ওয়ান বলেছে, কয়েক মাসের বিশ্লেষণ এবং তাদের অ্যাএমএল বিশেষজ্ঞ দলের পর্যালোচনার পর ব্যাংকের নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা অনুসরণ করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে এখানেই শেষ নয়। ব্যাংকটি একই সঙ্গে স্পষ্ট করেছে, তারা কখনোই ট্রাম্প অর্গানাইজেশনকে অবৈধ অর্থপাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত করেনি। তাদের বক্তব্য, অ্যাকাউন্ট বন্ধের সিদ্ধান্ত ছিল ঝুঁকি মূল্যায়নের অংশ।

অন্যদিকে, ট্রাম্প অর্গানাইজেশন এবং প্রেসিডেন্টের ছেলে এরিক ট্রাম্প ২০২৫ সালের মার্চে ফ্লোরিডার একটি ফেডারেল আদালতে মামলা করেন। তাদের অভিযোগ, ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল হিল দাঙ্গার পর রাজনৈতিক পরিবেশের কারণে এবং তথাকথিত "ওয়োক" অবস্থানের প্রভাবেই ক্যাপিটাল ওয়ান ৩০০টির বেশি ট্রাম্প-সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, আদালত এ বিষয়ে কী বলেছে? মায়ামির ফেডারেল আদালত ইতোমধ্যে মামলার দুটি অভিযোগপত্র খারিজ করেছে। তবে সংশোধিত অভিযোগ জমা দেওয়ার সুযোগও দিয়েছে বাদীপক্ষকে।

এখানেই আসছে বড় মোড়। ক্যাপিটাল ওয়ান আদালতে বলেছে, সর্বশেষ সংশোধিত অভিযোগেও আগের মতোই মৌলিক ত্রুটি রয়েছে। ব্যাংকের ভাষ্য, বাদীপক্ষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের যে অভিযোগ তুলেছে, তা আদালতে জমা দেওয়া নথির পূর্ণ প্রেক্ষাপট তুলে ধরে না।

এদিকে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তাঁর প্রশাসন ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কারণে সেবা না দেওয়ার অভিযোগকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এমনকি ২০২৫ সালের আগস্টে তিনি বৈষম্যমূলক ডিব্যাংকিং নিষিদ্ধ করে একটি নির্বাহী আদেশেও সই করেন।

এখন সবার নজর, আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে। এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের সংশোধিত অভিযোগ আদালতে টিকে থাকে কি না। আগামী শুনানিই বলে দেবে, এই বিরোধ রাজনৈতিক বৈষম্যের মামলা হিসেবে এগোবে, নাকি ব্যাংকের অ্যাএমএল নীতির বৈধতা আরও শক্তিশালী হবে।