ফ্রান্সে রাজনৈতিক আশ্রয় পাচ্ছেন না অধিকাংশ বাংলাদেশি
ছবি সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফ্রান্সে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করলেই কি মিলছে শরণার্থী মর্যাদা? ফরাসি কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক তথ্য বলছে একেবারেই ভিন্ন কথা। দেশটিতে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেও আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পাচ্ছেন না সিংহভাগ বাংলাদেশি। মূলতঃ পর্যাপ্ত প্রমাণাদির অভাব এবং প্রক্রিয়ার কঠোরতার কারণে হাজার হাজার বাংলাদেশির আবেদন ফিরিয়ে দিচ্ছে ফরাসি অভিবাসন বিভাগ।

ফ্রান্সের শরণার্থী ও রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের সুরক্ষাবিষয়ক সংস্থা ‘অফপ্রা’-র সাম্প্রতিক বার্ষিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ফরাসি কর্তৃপক্ষের কাছে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পাওয়ার হার মাত্র ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। অর্থাৎ, প্রতি ১০০ জন আবেদনকারীর মধ্যে গড়ে মাত্র সাতজন শরণার্থী মর্যাদা বা সাময়িক সুরক্ষা (সাবসিডিয়ারি প্রটেকশন) পাচ্ছেন।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর বাংলাদেশ থেকে প্রথমবারের মতো আশ্রয়ের আবেদন করেছেন ৩ হাজার ৮১৬ জন, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ৩৬ দশমিক ৭ শতাংশ কম। তবে প্রথম আবেদন, পুনর্বিবেচনা ও পুনরায় চালু করা আবেদন মিলিয়ে মোট ৪ হাজার ৫৩৪টি আবেদনের বিপরীতে মাত্র ৩৯৩ জন আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পেয়েছেন। বিপরীতে একই সময়ে ৪ হাজার ৯০৭টি আবেদন সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক আশ্রয় ইউরোপে অবস্থান করার কোনো সহজ পথ নয়। প্রতিটি আবেদনকে অত্যন্ত কঠোর আইনি যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আবেদনকারীকে নিজ দেশে রাজনৈতিক নিপীড়ন, নির্যাতন বা জীবননাশের গুরুতর ঝুঁকির সুনির্দিষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে হয়। উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণ না থাকলে আবেদন বাতিল হওয়াই স্বাভাবিক।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশকে তুলনামূলক নিরাপদ দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পর থেকে ফরাসি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশি নাগরিকদের আবেদনগুলো আরও কঠোরভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। দালালদের প্ররোচনায় বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে আশ্রয়ের আবেদন না করার পরামর্শ দিয়ে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এতে ব্যক্তির ক্যারিয়ার ও অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তাই প্রবাসগমনে সর্বদা বৈধ পথ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি