অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের স্বর্ণ খাতকে অনানুষ্ঠানিক ও নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থা থেকে বের করে একটি বৈধ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক শিল্প খাতে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বৈধ আমদানি, ডিজিটাল হিসাব, মজুতের নিবন্ধন, কর-শুল্কে স্বচ্ছতা এবং মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে রপ্তানি-এই পাঁচটি ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে প্রণয়ন করা হচ্ছে ‘স্বর্ণ নীতিমালা-২০১৮ (সংশোধিত)-২০২৬।’
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে খসড়া নীতিমালা পর্যালোচনা সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের স্বর্ণ খাত অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও কার্যকর নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর অভাবে এটি পুরোপুরি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়নি। ফলে বৈধ ব্যবসা, রাজস্ব আদায় এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘স্বর্ণ খাতকে দেশের অন্যান্য শিল্প ও ব্যাবসায়িক খাতের মতো বৈধ ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে। বৈধ আমদানি, মজুদ ও বিক্রির প্রতিটি ধাপ হিসাবভুক্ত হলে স্বচ্ছতা বাড়বে, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পাবে এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।’
তিনি জানান, বৈধভাবে আমদানি করা স্বর্ণের উৎকোচ, মজুদ, বিক্রি ও ব্যবহার সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। ব্যবসায়ীদের কাছে কী পরিমাণ স্বর্ণ রয়েছে, কোথা থেকে তা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং কী পরিমাণ বিক্রি হয়েছে, সব তথ্য নিয়মিতভাবে তদারকির আওতায় আনা হবে।
চোরাচালান ঠেকাতে বাজারমূল্যের ভারসাম্য : স্বর্ণ চোরাচালান প্রতিরোধে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের মধ্যে অস্বাভাবিক ব্যবধান না রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো পণ্যের স্থানীয় মূল্য যদি প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম হয়, তাহলে সেটি অবৈধভাবে পাচারের ঝুঁকি বাড়ায়।
এ কারণে শুল্ক ও করহার নির্ধারণের সময় আন্তর্জাতিক বাজার, বিশেষ করে দুবাইয়ের স্বর্ণবাজারের মূল্য পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়ার আহবান জানান তিনি।
রপ্তানির নতুন সম্ভাবনা : সভায় স্বর্ণালংকার শিল্পকে রপ্তানিমুখী খাতে পরিণত করার বিষয়ও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যৌক্তিক শুল্কে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ তৈরি করা গেলে স্থানীয় কারিগর ও উদ্যোক্তারা আন্তর্জাতিক মানের স্বর্ণালংকার উৎপাদন করতে পারবেন। এতে দেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
তিনি বলেন, ‘প্রথমত, দেখতে হবে আন্তর্জাতিক বাজারদরে স্বর্ণ এনে দেশে মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে তা রপ্তানি করা যায় কি না।
দ্বিতীয়ত, দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও স্বর্ণের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই ভোক্তার স্বার্থও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।’
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা : খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত করার আগে ভারতসহ স্বর্ণালংকার রপ্তানিতে এগিয়ে থাকা কয়েকটি দেশের নীতি, শুল্ককাঠামো, মজুদ ব্যবস্থাপনা ও তদারকি পদ্ধতি পর্যালোচনা করা হবে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সম্ভাব্য ঝুঁকি ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত জটিলতা চিহ্নিত করে মতামত দিতে বলা হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে সভায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) সভাপতি এনামুল হক খান, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ, এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং স্বর্ণ খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় জানানো হয়, অংশীজনদের মতামত পর্যালোচনার পর প্রয়োজন হলে আরো একটি পরামর্শ সভা হবে। এরপর দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংশোধিত স্বর্ণ নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে।
—জা. অর্থনীতি/এএইচএ
