ইবি প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) এবং ক্যাম্পাস সংলগ্ন আবাসিক মেস এলাকাগুলোতে আশঙ্কাজনকভাবে বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। তীব্র গরম ও অতিমাত্রায় লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের চলমান সেমিস্টার পরীক্ষা, গবেষণা, একাডেমিক কার্যক্রমসহ দৈনন্দিন জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবারে (১৩ আগস্ট) পাওয়া তথ্যমতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর তুলনায় পার্শ্ববর্তী লালন পকেট গেইট, শেখপাড়া বাজারসহ মেস এলাকাগুলোতে লোডশেডিংয়ের মাত্রা ৬ থেকে ৭ গুণ বেশি। দিনে ১০-১২ বার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্নতা, পানি সংকট ও তীব্র গরমে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
ভোগান্তির কথা জানিয়ে আল আমিন, সাফা, মুমতাহীনা মুমু এবং পরশ প্রভা শিকদারসহ একাধিক শিক্ষার্থী জানান, অনিয়মিত লোডশেডিংয়ের কারণে অনলাইন ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট ও পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ইন্টারনেট না থাকা ও রাতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় একাডেমিক কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থার দাবি জানান তারা।
পল্লী বিদ্যুতের স্বস্তিপুর জোনাল অফিসের ডিজিএম খালিদ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানান, জাতীয় গ্রিডে উৎপাদন কমে যাওয়ায় ২০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে মাত্র ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। মেস এলাকাগুলো সাধারণ গ্রামীণ ফিডারের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সেখানে আলাদা সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল মালেক জানান, বিদ্যুৎ সংকটটি একটি জাতীয় সমস্যা হলেও প্রশাসন সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। সীমিত বরাদ্দের সর্বোচ্চ অংশ বিশ্ববিদ্যালয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে সরবরাহ করা হচ্ছে জানিয়ে দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি