মেহেরপুর প্রতিনিধি: মেহেরপুর শহরেএক কলেজছাত্রীকে কুপিয়ে হাত বিচ্ছিন্ন এবং ওই ছাত্রীর বাবা-মাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনায় অভিযুক্ত শয়নকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শহরের মল্লিকপাড়ার একটি আম বাগান থেকে তাকে আটক করা হয়। অভিযুক্ত শয়ন হোটেল ব্যবসায়ী আবু তালেবের ছেলে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে শহরের লর্ড মার্কেট এলাকার সেলিম হোসেনের বাড়িতে এ নৃশংস ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত দেড়টার দিকে শয়ন সেলিম হোসেনের বাড়িতে ঢুকে তার মেয়ের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে অতর্কিত হামলা চালান। একপর্যায়ে কুপিয়ে তার ডান হাত বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এ সময় চিৎকার শুনে বাবা সেলিম হোসেন ও মা রেবেকা খাতুন ছুটে এলে তাদের ওপরও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে শয়ন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
প্রেমিকের কোপে তরুণীর হাত বিচ্ছিন্ন, বাবা-মা আহত
স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় ৩ জনকে উদ্ধার করে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। ঘটনার খবর পেয়ে মেহেরপুর সদর থানা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
ভুক্তভোগীর মা রেবেকা খাতুন জানান, শয়ন আমার মেয়েকে পছন্দ করতো। যে কারণে বিভিন্ন সময় তাকে বিরক্ত করতো। একপর্যায়ে আমার মেয়েকে তুলে নিয়ে বিয়ে করে। পরে বিষয়টি জানতে পেরে মেয়েকে তার কাছ থেকে ছাড়িয়ে নেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শয়ন ও ভুক্তভোগীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একপর্যায়ে পরিবারের অমতে বিয়ে হয় তাদের। বিয়ের কয়েকদিন পরই শয়ন নেশাগ্রস্ত জানতে পেরে শুরু হয় দাম্পত্য কলোহ। তারই জেরে শয়নকে তালাক দেয় ভুক্তভোগী। পরে বাবার বাড়িতে চলে আসো। এতে হয়ে ভুক্তভোগীকে কুপিয়ে জখম করে শয়ন। এ সময় কুপিয়ে ঐ তার ডান হাত বিচ্ছিন্ন করে দেয়। মেয়েকে বাঁচাতে গেলে কুপিয়ে জখম করা হয় বাবা সেলিম হোসেন ও মা রেবেকা খাতুনকে।
জামালপুরে মিমি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ১
মেহেরপুর সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবীর জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রেম ছিল শয়ন ও ভুক্তভোগীর। কিছুদিন আগে তাদের বিয়ে হয় বলে জানা গেছে। বিয়ের কয়েকদিন পরেই দাম্পত্য কলোহের জের ধরে ভুক্তভোগী শয়নকে তালাক দেয়। এ কারণেই এই হামলা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তারপর হামলার আসল কারণ জানা যাবে।
—জা.অর্থনীতি/এনজে
