বেতাগীতে ভুয়া চিকিৎসার ছড়াছড়ি
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

বরগুনা প্রতিনিধি: প্রথমে রেন্ট-এ-কারের বাইক রাইডার, এরপর স্বর্ণকার। সেখান থেকে রাতারাতি বনে গেছেন ‘সর্বরোগ বিশেষজ্ঞ’। বরগুনার বেতাগী পৌরশহরে মিলেছে এমন কথিত ডাক্তারের সন্ধান। কথিত হাতুড়ে ওই ডাক্তারের নাম জাহাঙ্গীর আলম। বেতাগী ফার্মেসি পট্টিতে দালাল চক্রের মাধ্যমে চেম্বার নিয়ে বসেছেন তিনি। তার অপচিকিৎসায় সহযোগিতা করছেন বেতাগী পৌর জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক আল আমিন।

‎জানা যায়, বৈধ চিকিৎসা সনদ ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে রোগী দেখছেন জাহাঙ্গীর। তার চিকিৎসার গোপন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ডাক্তার না হয়েও সব রোগের চিকিৎসা করেন তিনি। ওষুধ ও পরীক্ষা দেওয়ার একটি ভিডিও চিত্র ছড়িয়ে পড়ে নেট দুনিয়ায়। প্রশাসন বলছে, আগেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু থামানো যাচ্ছে না কথিত এই অবৈধ চিকিৎসা কার্যক্রম।

‎সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, প্রায় এক দশক আগে রেন্ট-এ-কারের বাইক রাইডার হিসেবে কাজ করতেন তিনি। পরে যুক্ত হন স্বর্ণ ব্যবসায়। আর এখন সেই জাহাঙ্গীরই রোগীদের কাছে পরিচিত ‘ডাক্তার’ হিসেবে। চিকিৎসার নির্ধারিত ভিজিট ২০০ টাকা। চেম্বারে দেখা যায় হায়ার অ্যান্টিবায়োটিক সেফট্রিয়াক্সোনসহ বিভিন্ন ওষুধের খালি কার্টন ও স্যালাইনের প্যাকেট। জাহাঙ্গীরের ব্যবস্থাপত্রে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন ওষুধ ও পরীক্ষা দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, তার চেম্বার ঘিরে রয়েছে একাধিক কথিত দালাল। তাদের মাধ্যমে রোগী এনে চিকিৎসার নামে অর্থ আদায় করে তিনি।

‎অভিযুক্ত জাহাঙ্গীরের চিকিৎসা-যোগ্যতা জানতে চাইলে গোপন ক্যামেরায় জাহাঙ্গীর নিজেকে ‘টেকনিশিয়ান’ বলে পরিচয় দেন। তিনি চিকিৎসা করছেন এবং তার চিকিৎসার প্রেসক্রিপশন দেখালে সেটি হাত থেকে টেনে নিয়ে ছিঁড়ে দৌড়ে পালান।

‎বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়্যিদ মুহাম্মদ আমরুল্লাহ বলেন, জাহাঙ্গীরের চিকিৎসা দেওয়ার বৈধ কাগজপত্র নেই। এর আগেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এখনও যেহেতু তিনি চেম্বার করছেন, আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব।

‎এ বিষয়ে বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন জানান, আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি