জাতীয় অর্থনীতি স্বাস্থ্য ডেস্ক: হঠাৎ বুক ধড়ফড় করা, শরীর কাঁপা, অতিরিক্ত ঘাম কিংবা মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ দেখা দিলে সতর্ক হওয়া জরুরি। এসব রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ অবস্থাকে বলা হয় হাইপোগ্লাইসিমিয়া। বিশেষ করে ডায়াবেটিসের ওষুধ বা ইনসুলিন ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে এটি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে গুরুতর অবস্থায় রোগী অচেতন হয়ে পড়তে পারেন, এমনকি খিঁচুনিও হতে পারে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত ওষুধ সেবন বা ইনসুলিন নেওয়া অনেক রোগীর জন্য প্রয়োজনীয়। তবে নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি ওষুধ নেওয়া, খাবার বাদ দেওয়া, দেরিতে খাওয়া কিংবা অতিরিক্ত শরীরচর্চার কারণে রক্তে শর্করা হঠাৎ কমে যেতে পারে। তাই উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
হাইপোগ্লাইসিমিয়ার লক্ষণ কী?
রক্তে শর্করা কমে গেলে শরীর বিভিন্নভাবে সংকেত দিতে পারে। যেমন-
• হঠাৎ বুক ধড়ফড় করা বা হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া
• শরীর কাঁপা এবং অতিরিক্ত ঘাম হওয়া
• মাথা ঘোরা, দুর্বল লাগা বা ক্লান্তি
• তীব্র ক্ষুধা লাগা
• ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া
• অস্থিরতা, বিরক্তি বা মনোযোগে সমস্যা
• গুরুতর অবস্থায় বিভ্রান্তি, খিঁচুনি কিংবা অচেতন হয়ে যাওয়া।
সাধারণত রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা প্রতি ডেসিলিটারে ৭০ মিলিগ্রামের নিচে নামলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তবে শুধু এসব উপসর্গ দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় না যে রক্তে শর্করা কমেছে। সম্ভব হলে গ্লুকোমিটার দিয়ে মাত্রা পরীক্ষা করতে হবে।
সুগার কমলে কী করবেন?
রোগী সচেতন থাকলে এবং স্বাভাবিকভাবে গিলতে পারলে দ্রুত শোষিত হয় এমন শর্করা দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে গ্লুকোজ ট্যাবলেট, আধা কাপ ফলের রস অথবা পানিতে গুলে চিনি খাওয়ানো যেতে পারে। সাধারণত প্রায় ১৫ গ্রাম দ্রুত শোষিত শর্করা দিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা আবার পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
মাত্রা এখনও কম থাকলে একইভাবে আবার শর্করা দিতে হবে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে পরবর্তী খাবার গ্রহণের সময় এবং শর্করা আবার কমে যাওয়ার ঝুঁকি বিবেচনায় পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে।
যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন
অচেতন ব্যক্তিকে মুখে কিছু দেবেন না: রোগী অজ্ঞান হয়ে গেলে বা খিঁচুনি হলে মুখে পানি, চিনির শরবত কিংবা অন্য কোনো খাবার দেবেন না। এতে খাবার বা তরল শ্বাসনালিতে ঢুকে শ্বাসরোধ হতে পারে।
চকলেটের ওপর নির্ভর করবেন না: চকলেটে চর্বি থাকায় শর্করা শোষণের গতি কমতে পারে। তাই রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়াতে গ্লুকোজ বা দ্রুত শোষিত শর্করার উৎস বেশি উপযোগী।
সুস্থ মনে হলেও অবহেলা করবেন না: উপসর্গ কমে যাওয়ার পরও রক্তে শর্করা আবার কমতে পারে। রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
নিজে থেকে ওষুধ বা ইনসুলিনের মাত্রা পরিবর্তন করবেন না: বারবার এমন হলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে ওষুধ, খাবার ও ব্যায়ামের পরিকল্পনা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
কখন জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন?
রোগী অচেতন হলে, খিঁচুনি হলে, গিলতে না পারলে কিংবা শর্করা দেওয়ার পরও অবস্থার উন্নতি না হলে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। অচেতন ব্যক্তিকে কাত করে নিরাপদ অবস্থানে রাখুন। প্রশিক্ষণ ও উপযুক্ত ওষুধ থাকলে গুরুতর হাইপোগ্লাইসিমিয়ায় গ্লুকাগন ব্যবহার করা যেতে পারে। বাংলাদেশে জরুরি সহায়তার জন্য ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করুন।
সর্বশেষ চিকিৎসা নির্দেশনা: আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন ও যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের নির্দেশনায় সচেতন রোগীর জন্য ১৫-১৫ নিয়ম এবং গুরুতর অবস্থায় দ্রুত জরুরি চিকিৎসার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।