ব্রহ্মপুত্রে তীব্র ভাঙন: বিলীনের পথে গ্রাম
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

​গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার দুর্গম এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র ভাঙনে বিলীনের মুখে পড়েছে ঐতিহ্যবাহী জিগাবাড়ি গ্রাম। নদের পানি কমার সাথে সাথে অব্যাহত ভাঙনে প্রতিদিন নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে বিঘা বিঘা ফসলি জমি ও বসতভিটা।

ভাঙনের এই ভয়াবহতায় গ্রামের অন্তত ৩০টিরও বেশি পরিবার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে বসতবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নদের পানি কমার ফলে নদীভাঙনের তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে গেছে। ইতোমধ্যে জিগাবাড়ি গ্রামের একাংশের বেশ কয়েকটি বসতভিটা, বহু গাছপালা ও আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন এখন এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে হুমকির মুখে পড়েছে গ্রামের চলাচলের একমাত্র মেঠোপথটিসহ আশপাশের বাড়িঘর। উপায় না পেয়ে অনেক পরিবার ইতোমধ্যেই তাদের ঘরদোর ভেঙে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বেরিয়ে পড়েছেন।

​ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটানো জিগাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা মো. জুয়েল মিয়া (৩৫) আকুতি জানিয়ে বলেন, ‘রাতে ঘুমাইতে পারি না, শুধু ভাঙনের শব্দ শুনি। আমাগো জমিজমা যা আছিল সব আগেই ব্রহ্মপুত্রে গিয়াছে। এহন খালি এই ভিটাডা আছিল, হেডাও নদীর পেটে যাইতাছে। আমাগো তো আর যাওয়ার জায়গা নাই, সরকার যদি এহনই পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে কোনো স্থায়ী বাঁধ না দেয়, তাইলে খোলা আকাশের নিচে থাকা ছাড়া কোনো উপায় থাকবো না।

​একই গ্রামের গৃহিণী মোছা. রাবেয়া বেগম (৩৮) কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘নিজের চোখের সামনে বাপের আমলের ভিটামাটি নদীতে ভাইসা যাইতে দেখা যে কত কষ্টের, তা বুঝানো যাইবো না। পোলাপান লইয়া কই যামু, কী খামু— কিছুই ভাববার পারতাছি না। প্রতি বছরই এই সময় নদী আমাগো সবকিছু কাইড়া নেয়। ত্রাণ বা চাল-ডাল আমাগো লাগবো না, আমরা একটা স্থায়ী বাঁধ চাই, যেন ভিটাডাতে থাইকা বাঁচবার পারি।’

​ভাঙন পরিস্থিতির বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান জানান, জিগাবাড়ি গ্রামে নদীভাঙনের ভয়াবহ পরিস্থিতির বিষয়ে আমরা বারবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সাথে যোগাযোগ করেছি, কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য—এ পর্যন্ত তাদের কাছ থেকে কোনো কার্যকর সহযোগিতা বা সমাধান পাওয়া যায়নি। ইউপি পরিষদ থেকে সাময়িকভাবে এত বড় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া অসম্ভব। সরকারিভাবে টেকসই কোনো উদ্যোগ না নিলে এই পুরো গ্রামটি রক্ষা করা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।

​এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

প্রকৃতির তাণ্ডবে সহায়-সম্পদ হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটানো জিগাবাড়ি গ্রামের মানুষের একটাই আকুল দাবি— জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন থেকে গ্রামটিকে চিরতরে রক্ষা করতে অবিলম্বে জিওটেক্সটাইল বা স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হোক।

—জা. অর্থনীতি/এনজে