কেন দেশের ব্যাংকিং বাজারে পিছিয়ে পড়ছে বিদেশি ব্যাংক?
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক:

 

বাংলাদেশে ব্যবসা করেও কেন কমছে বিদেশি ব্যাংকগুলোর মুনাফা? এক বছরে আয় কমেছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা, অন্যদিকে বেড়েছে খেলাপি ঋণ। কমছে আমানত ও ঋণের বাজারে অংশীদারত্বও। তাহলে কি দেশের ব্যাংকিং বাজারে পিছিয়ে পড়ছে বিদেশি ব্যাংকগুলো? বিদেশি ব্যাংকের মুনাফায় বড় পতন, বেড়েছে খেলাপি ঋণও।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘বাংলাদেশে বিদেশি ব্যাংকের কার্যক্রম: প্রবণতা ও কার্যক্রমের বিশ্লেষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি-জুন সময়ে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বিদেশি ব্যাংকগুলোর মুনাফা, পুনর্বিনিয়োগ, আমানত ও ঋণের বাজার অংশীদারত্বসহ বিভিন্ন সূচকে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বিদেশি ব্যাংকগুলোর কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ২ হাজার ৩২১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ২ হাজার ৮১৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। অর্থাৎ, মুনাফা কমেছে ৪৯৪ কোটি ১০ লাখ টাকা বা ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ। একই সময়ে খেলাপি ঋণের হার ২০২৫ সালের জুনের ৬ দশমিক ১ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালের জুনে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে। সম্পদের বিপরীতে মুনাফার হার বা রিটার্ন অন অ্যাসেটস (আরওএ) ২ দশমিক ০৯ শতাংশ থেকে কমে ১ দশমিক ৬২ শতাংশ হয়েছে। ইকুইটির বিপরীতে মুনাফার হার বা রিটার্ন অন ইকুইটি (আরওই) ৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ থেকে কমে ৭ দশমিক ০৬ শতাংশে নেমেছে।

বাংলাদেশে বিদেশি ব্যাংকগুলোর পুনর্বিনিয়োগকৃত আয় ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৮০ কোটি ১০ লাখ টাকা। গত বছরের একই সময়ে তা ছিল ২ হাজার ৮০৩ কোটি ১০ লাখ টাকা। ফলে পুনর্বিনিয়োগ কমেছে ৬২৩ কোটি টাকা বা ২২ দশমিক ২ শতাংশ।

দেশের মোট ব্যাংক আমানতে বিদেশি ব্যাংকগুলোর অংশীদারত্ব ২০২৫ সালের জুনের ৪ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কমে ডিসেম্বরে ৪ দশমিক ২ শতাংশ এবং ২০২৬ সালের জুনে ৪ শতাংশ হয়েছে। ঋণের বাজারে তাদের অংশীদারত্বও ২ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমে ২ দশমিক ৭ শতাংশ হয়েছে। এ ছাড়া মেয়াদি আমানত কমেছে ১২ দশমিক ৯ শতাংশ এবং বিশেষ নোটিশ আমানত ৩১ দশমিক ৪ শতাংশ।

খাতভিত্তিক ঋণে ২০২৬ সালের জুনে পরিবহন খাতে ঋণ ৫০ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ১০ কোটি ১০ লাখ টাকা হয়েছে। নির্মাণ খাতে ১৪ দশমিক ১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪২৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা। অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে হয়েছে ৩ হাজার ৭৪২ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

এদিকে, মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত (সিএআর) ৪২ দশমিক ৬৯ শতাংশ থেকে কমে ৪১ দশমিক ২১ শতাংশ এবং তারল্য কভারেজ অনুপাত (এলসিআর) ৪৩০ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে কমে ৩৫৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ হয়েছে। তবে অনুপাত দুটি কমলেও বিদেশি ব্যাংকগুলোর মূলধন ও তারল্যের অবস্থান তুলনামূলক শক্তিশালী রয়েছে।

সব মিলিয়ে, বিদেশি ব্যাংকগুলোর মুনাফা কমা, খেলাপি ঋণের হার বৃদ্ধি, পুনর্বিনিয়োগ কমে যাওয়া এবং আমানত ও ঋণের বাজারে অংশীদারত্ব সংকুচিত হওয়ার চিত্র উঠে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে। একই সঙ্গে মূলধন পর্যাপ্ততা ও তারল্য কভারেজ অনুপাত কমলেও ব্যাংকগুলোর মূলধন ও তারল্যের অবস্থান এখনো তুলনামূলক শক্তিশালী। তবে মুনাফা ও ব্যবসার বিভিন্ন সূচকে এই নেতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে দেশের ব্যাংকিং খাতে বিদেশি ব্যাংকগুলোর অবস্থানে কী প্রভাব পড়বে, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি