বিশ্ববাজারে তেলের দাম  ৫ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নতুন করে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে পাঁচ মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গতকাল শুক্রবার আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১১৬ ডলারের ওপরে উঠে যায়। গত মে মাসের পর এটিই তেলের সর্বোচ্চ দাম।

তেলের দাম বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে তেহরানের একটি হুঁশিয়ারি। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি দেশটির বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করে, তাহলে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল স্থাপনা, সমুদ্রের তলদেশে থাকা যোগাযোগের কেবল, ডেটা সেন্টার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা চালাবে।

ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান ইন্টারঅ্যাকটিভ ইনভেস্টরের রিচার্ড হান্টার গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর কূটনৈতিক পথ অনুসরণ না করে ইরানে নতুন করে সামরিক হামলার কথা বিবেচনা করছে— এমন ব্যাপক খবরের কারণেই তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে। অনেকেই যে সংঘাতকে স্বল্পস্থায়ী বলে মনে করেছিলেন, তা এখন অষ্টম মাসে গড়িয়েছে।’ 

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে, গত ফেব্রুয়ারিতে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ৭২ ডলারে লেনদেন হচ্ছিল। কিন্তু এপ্রিলের শেষ নাগাদ তা বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১২৬ ডলারে পৌঁছায়।

চলতি সপ্তাহে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, বুধবার হরমুজ প্রণালিতে চারটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে।

এদিকে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের অব্যাহত হামলার মুখে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সৌদি আরব থেকে কিছু কূটনীতিক এবং মার্কিন সরকারি কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান ওয়েলথ ক্লাবের প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ সুজানা স্ট্রিটার গার্ডিয়ানকে বলেন, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের পর মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীকে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হতে পারে— এমন আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘একই সময়ে সৌদি আরবের স্থাপনাগুলোতে হুথি বিদ্রোহীদের হামলা এই সপ্তাহে আরও তীব্র হয়েছে। আর যেসব জাহাজ হরমুজ প্রণালি পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করছে, তাদের জন্য যাত্রাটি এখনও বিপজ্জনক। সেখানে এখনও বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরক নিক্ষেপ করা হচ্ছে।’

এদিকে দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে ইউরোপের শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে। যুক্তরাজ্যের এফটিএসই ১০০ সূচক শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ, প্যারিসের ক্যাক ৪০ সূচক ১ শতাংশ এবং ফ্রাঙ্কফুর্টের ড্যাক্স সূচক ১ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে।

ওয়াল স্ট্রিটে ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ সূচক ১ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ এবং নাসডাক কম্পোজিট সূচক আগের দিনের তুলনায় ধীরগতিতে কমেছে।