অবসরের পরিকল্পনা জানালেন নেইমার
ক্রীড়া প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন আগেই, আর ক্লাব ফুটবলেও নেইমার জুনিয়রের ক্যারিয়ারের সূর্য এখন পশ্চিম গগনে। দীর্ঘ পেশাদার জীবনের টানাপোড়েন ও প্রতিনিয়ত শিরোনামে থাকা এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড বুটজোড়া একবারে তুলে রাখার পর কী করবেন—তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে কৌতুহল। সম্প্রতি সমস্ত জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে নিজের অবসর-পরবর্তী জীবন, পরিবার ও মাঠের বাইরের ভাবনা নিয়ে মুখ খুলেছেন সাবেক বার্সেলোনা ও পিএসজি তারকা।
ব্রাজিলে আয়োজিত ‘ভারান্দা গুরমে’ অনুষ্ঠানে জনপ্রিয় উপস্থাপক মৌরিসিও মেইরেলেস এবং ড্যানিয়েল জুকারম্যানকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নেইমার অত্যন্ত খোলামেলা আলোচনায় অংশ নেন। সেখানে নিজের ভবিষ্যতের পরিকল্পনা সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, ফুটবলকে বিদায় জানানোর ঠিক পর মুহূর্তেই কোনো নতুন কাজ বা পেশাদার বাধ্যবাধকতায় নিজেকে জড়াতে চান না। অবসর জীবনের প্রথম একটি বছর তিনি পুরোপুরি মুক্ত থেকে সম্পূর্ণ দায়বদ্ধতাহীন জীবনযাপন উপভোগ করতে চান।
মজার ছলে হাসতে হাসতে নেইমার নিজের অবসর-পরবর্তী রুটিন ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘অবশ্যই, আমি যখন খেলা ছেড়ে দেব, তখন প্রথম একটা বছর কিছুই করব না। খালি বসে বসে অলস সময় পার করব। তখন আমার রুটিনটা হবে এমন—আজকে আমার ফুটবল খেলতে ইচ্ছে করছে, তাই খেলতে যাব। আজ আমার কিছু করতে ইচ্ছে করছে না, তো কিচ্ছু করব না।’ তিনি স্পষ্ট জানান, পেশাদার ফুটবলের কঠোর সময়সূচী থেকে বের হয়ে কখন তিনি শুধুই আনন্দের জন্য বল পায়ে মাঠে নামবেন, সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তার নিজের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে।
মাঠের ব্যস্ততার মাঝে ব্যক্তিগত জীবন ও সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানোর অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন সান্তোসের এই পোস্টার বয়। কড়া ফিজিওথেরাপি সেশন এবং ক্লাবের নিয়মিত অনুশীলনের ক্লান্তি কাটিয়ে কীভাবে পরিবারের সঙ্গে মুহূর্তগুলো ভাগ করে নেন, সে প্রসঙ্গে নেইমার জানান, ব্যস্ততার মধ্যেও সন্তানদের জন্য সময় বের করা তার কাছে সবচেয়ে অগ্রাধিকার পায়। বিশেষ করে তার মেয়ে অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র দেখতে ভীষণ ভালোবাসে। মেয়ের এই পছন্দের কথা উল্লেখ করে নেইমার বলেন, ‘আমার জীবনটা খুবই ব্যস্ত—ফিজিওথেরাপি করতে হয়, অনুশীলন থাকে... তবুও সন্তানদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু মুহূর্ত আমি তুলে রাখি এবং ওরা যা পছন্দ করে সেটাই করার চেষ্টা করি। আমার মেয়ে ‘শ্রেক’ আর ‘দ্য গ্রিঞ্চ’ সিনেমা দুটি খুব পছন্দ করে, আমি ওর সঙ্গে বসে এগুলো দেখি।’
মাঠের দুর্দান্ত ড্রিবলিং আর জাদুকরী পারফরম্যান্সে বিশ্বকে মাতানো এই ব্রাজিলিয়ান তারকা যে অবসরের পর একজন দায়িত্বশীল বাবা হিসেবে শান্ত ও অলস জীবনযাপন পছন্দ করবেন, তা তার কথাতেই পরিষ্কার।