অনলাইন ডেস্ক: রাত গভীর হলেও বিছানায় এপাশ-ওপাশ করে চোখের ঘুম উবে যাওয়া আধুনিক জীবনে অত্যন্ত সাধারণ এক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতিরিক্ত মানসিক চাপ, কাজের ব্যস্ততা কিংবা অনিয়মিত জীবনযাপনের কারণে অনেকেই এমন জটিলতায় ভোগেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, নিয়মিত পরিমিত ঘুম না হলে ক্লান্তি, কাজে মনোযোগের অভাব এবং খিটখিটে মেজাজের পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা এনএইচএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতি রাতে গড়ে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। তাই ঘুমের জন্য সরাসরি ওষুধের ওপর নির্ভর না করে প্রাত্যহিক কিছু অভ্যাস ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনলে সহজেই এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব।
ভালো ঘুমের জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে চলা। ছুটির দিনসহ সপ্তাহের প্রতিটি দিনেই একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। কখনো তাড়াতাড়ি ঘুমানো আবার কখনো গভীর রাত জেগে বিনোদনে মগ্ন থাকার অভ্যাস শরীরের প্রাকৃতিক জৈবিক ছন্দ নষ্ট করে দেয়। একই সঙ্গে ঘুমানোর অন্তত ৩০ মিনিট আগে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ কিংবা টেলিভিশনের মতো স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা প্রয়োজন। এর বদলে ঘুমানোর আগে মনকে শান্ত রাখতে বই পড়া, মৃদু সুরের গান শোনা কিংবা মেডিটেশনের মতো শিথিলতামূলক কর্মকাণ্ডে সময় কাটানো যেতে পারে।
শোবার ঘরের অনুকূল পরিবেশও নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের জন্য অপরিহার্য। শোবার ঘরটি যথাসম্ভব শান্ত, অন্ধকার এবং আরামদায়ক তাপমাত্রায় রাখা উচিত; কারণ অতিরিক্ত আলো, শব্দ কিংবা গুমোট পরিবেশ ঘুমের স্বাভাবিক ব্যাঘাত ঘটায়। ঘুমানোর আগে কুসুম গরম পানিতে গোসল করা কারও কারও ক্ষেত্রে শরীরকে শিথিল করে ঘুমে সাহায্য করতে পারে, তবে নিমপাতা মেশানো পানি অনিদ্রা দূর করে—এমন ধারণার পক্ষে যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। এছাড়া খাদ্যতালিকায় সচেতনতা বজায় রাখা জরুরি। বিকেল ও সন্ধ্যার পর চা, কফি বা ক্যাফেইনযুক্ত যেকোনো পানীয় এবং শোবার ঠিক আগে ভারী খাবার খাওয়া পরিহার করা উচিত। নিয়মিত দিনের আলোতে হাঁটাচলা ও শরীরচর্চা ভালো হলেও ঘুমানোর ঠিক আগে কঠোর ব্যায়াম করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
লোকজ কিংবা আয়ুর্বেদিক চর্চায় পায়ের পাতায় ঘি মালিশ করার রীতি থাকলেও দ্রুত বা গভীর ঘুমের জন্য এর কার্যকারিতার পক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ঘুম না এলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে ঘুমের ওষুধ খাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, যা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরির পাশাপাশি স্থায়ী নির্ভরতা তৈরি করতে পারে। অনেক সময় মানসিক উদ্বেগ, থাইরয়েড কিংবা ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্টজনিত শারীরিক সমস্যার কারণেও অনিদ্রা হতে পারে। তাই স্বাস্থ্যকর অভ্যাস পরিবর্তনের পরও যদি মাসের পর মাস ঘুমের সমস্যা অব্যাহত থাকে এবং তা স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলে, তবে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।
জেএ/অভি