প্রযুক্তি ডেস্ক: ক্রিপ্টোকারেন্সিসহ ডিজিটাল সম্পদের ওপর প্রস্তাবিত কর আরোপের সিদ্ধান্ত আরও দুই বছর পিছিয়ে দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৭ সালের পরিবর্তে ২০২৯ সাল থেকে এ খাতে কর কার্যকর করবে দেশটি।
গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৯ সাল নাগাদ কার্যকর করার লক্ষ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার ভার্চুয়াল ও ডিজিটাল সম্পদের ওপর কর ব্যবস্থার কাঠামোগত প্রস্তুতি জোরদার করবে। কর আরোপের এই সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়ে জাতীয় সংসদের (ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি) সঙ্গেও আলোচনা করা হবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
কর বাস্তবায়নের সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ার কারণ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভার্চুয়াল সম্পদ সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান ব্যবস্থা শুরু হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছে কোরিয়ান সরকার। যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে এই তথ্য আদান-প্রদান চুক্তিটি ২০২৯ সালে পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে। অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিদ্যমান পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৭ সালে কর আরোপ করা হলে বৈশ্বিক বাজারের তুলনায় স্থানীয় ক্রিপ্টো বাজার পিছিয়ে পড়তে পারে এবং স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে পারেন।
বর্তমানে ডিজিটাল সম্পদ সম্পর্কিত একটি নতুন আইনি কাঠামো প্রণয়ন নিয়ে কাজ করছে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার। এই নতুন আইন ও নীতি আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশটির ডিজিটাল সম্পদের বাজারের পরিবেশকে দৃশ্যমানভাবে বদলে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পরবর্তী দুই বছরের মধ্যে সরকার বিদেশে পরিচালিত কোরিয়ানদের ডিজিটাল সম্পদ লেনদেনের ওপর কীভাবে কর আরোপ করা যায়, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা ও কৌশল তৈরি করবে। একইসঙ্গে এ খাতের উচ্চ অস্থিরতা বিবেচনায় রেখে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় উদীয়মান প্রযুক্তি শিল্পের প্রবৃদ্ধিকে টিকিয়ে রাখার ভারসাম্য বজায় রাখতে চায় সিউল।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, অর্থ মন্ত্রণালয় ২০২৭ সালের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইন ও সংশোধনী প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন করবে। এর পর ২০২৮ সালের প্রথম অর্ধের মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারী ও খাতসংশ্লিষ্টদের জন্য নির্দিষ্ট ট্যাক্স কোড বা করের হার এবং অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
প্রযুক্তির নতুন এই খাতের ঝুঁকি এবং বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখতেই দক্ষিণ কোরিয়া সরকার তড়িঘড়ি না করে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ধরে এগোনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিউলের এই পদক্ষেপে সাময়িকভাবে স্বস্তি পেয়েছেন দেশটির সাধারণ ক্রিপ্টো বিনিয়োগকারী ও এক্সচেঞ্জ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।
