শীতের বাজারে ক্রেতার খরা

শফিক আহমদ শফি, সিলেট: বাংলা পঞ্জিকার কার্তিক মাস শেষের পথে। প্রকৃতিতে শীতের আগমনী বার্তা থাকার কথা থাকলেও সিলেটে এখনও জেঁকে বসেনি শীত। সকাল-সন্ধ্যায় সামান্য আবহাওয়া পরিবর্তন হলেও দিনের বেশিরভাগ সময় থাকছে গরমের অনুভূতি। ফলে শীতের পোশাকের বাজারে দেখা দিয়েছে ক্রেতাসংকট। আগাম প্রস্তুতি নিয়ে পণ্য সংগ্রহ করা ব্যবসায়ীদের মধ্যে বাড়ছে হতাশা ও লোকসানের শঙ্কা।


প্রতি বছর কার্তিক মাস থেকেই সিলেটে শীতের পোশাকের বেচাকেনা শুরু হয়। নগরীর জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার, হাসান মার্কেট, আম্বরখানা ও রিকাবীবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার ফুটপাত ও বিপণিবিতানে সাজানো হয় শীতের পোশাকের পসরা। সোয়েটার, জ্যাকেট, হুডি, কম্বল, চাদর ও শিশুদের গরম কাপড়ের পর্যাপ্ত সংগ্রহ রাখেন ব্যবসায়ীরা। তবে এবার শীতের দেখা না মেলায় প্রত্যাশিত বিক্রি হচ্ছে না।

ব্যবসায়ীরা জানান, মৌসুম সামনে রেখে আগেভাগেই পাইকারি বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ পোশাক সংগ্রহ করেছেন তারা। দোকানভাড়া, কর্মচারীদের বেতন ও পরিবহন খরচসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করেছেন মোটা অঙ্কের টাকা। কিন্তু ক্রেতাদের আনাগোনা থাকলেও শীতের পোশাক কেনার আগ্রহ কম। এতে পুঁজি আটকে যাওয়ার পাশাপাশি লোকসানের আশঙ্কাও বাড়ছে। মৌসুমি ব্যবসায়ীদের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। ফুটপাত ও অস্থায়ী দোকানে শীতের পোশাক বিক্রি করেই বছরের একটি বড় সময়ের আয় করেন তারা। শীত দেরিতে শুরু হলে তাদের ব্যবসার সময়ও সংকুচিত হয়ে পড়ে। এতে সংসার চালানো নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়তে হয় অনেককে।

নগরীর হাসান মার্কেটের ব্যবসায়ী আব্দুল হান্নান বলেন, কার্তিক মাস শেষের দিকে হলেও এখনও কাঙ্ক্ষিত শীতের দেখা নেই। প্রতি বছর এ সময়ে হালকা শীতের আমেজ শুরু হলেও এবার আবহাওয়ার কারণে গরমের ভাব রয়ে গেছে। ফলে শীতের পোশাকের বেচাকেনা জমে ওঠেনি। এতে হতাশায় দিন কাটছে তাদের। জিন্দাবাজার এলাকার ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জামাল মিয়া বলেন, শীত না পড়ায় গরম কাপড়ের বাজারে এখনও প্রত্যাশিত গতি ফেরেনি। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল থেকে নগরীতে আসা ক্রেতাদের মধ্যেও শীতের পোশাক কেনার তেমন তাড়া দেখা যাচ্ছে না।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি সিলেট জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ও হাসান মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ মো. আজিজুল করিম বলেন, শীতের দেখা না মেলায় গরম কাপড়ের ব্যবসা এখনও জমে ওঠেনি। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও অজানা আতঙ্কও ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রভাব ফেলেছে। তবে দ্রুত তাপমাত্রা কমে শীতের আমেজ ফিরলে মৌসুমি বেচাকেনা বাড়বে বলে আশা করছেন তারা। অন্যথায় আগাম বিনিয়োগ করা ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।